ঠিক কতবার বিয়ের পিড়িতে বসেছিলেন পরিমনি? জানুন আসল তথ্য

23
ঠিক কতবার বিয়ের পিড়িতে বসেছিলেন পরিমনি? জানুন আসল তথ্য

বাংলাদেশের পরমা সুন্দরী অভিনেত্রী পরীমনি মাদক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে বিগত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে জেলে বন্দি রয়েছেন। এক জন আসামীর মতো কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে নিভৃতে জীবন কাটছে তাঁর। অন্যান্য বন্দীদের মতোই জেলের খাবার খাচ্ছেন। আর বারবার খারিজ হয়ে যাচ্ছে তাঁর জামিনের মামলা। পরীমনিকে নিয়ে তদন্তের ফলে পুলিশের হাতে উঠে এসেছে অনেক গোপন তথ্য।

একদিকে যখন পুলিশ পরীমনির বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহে ব্যস্ত, অপরদিকে তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় সমান তালে চলছে পরীমনির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চা। ডিবি কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গে পরীমনির ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একটি ভিডিও সদ্য ভাইরাল হয়েছে নেট দুনিয়ায়। ভাইরাল সেই ভিডিওতে সাকলায়েনের ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে চুম্বন করতে দেখা যাচ্ছে অভিনেত্রীকে। পুলিশের কর্মকর্তার সঙ্গে অভিনেত্রীর সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে বাংলাদেশে। তবে পরীমনিকে নিয়ে এমন বিতর্ক তো প্রথম নয়। সিনেমা জগতে আসার আগে থেকেই একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন তিনি। একাধিক পুরুষের সঙ্গে তার প্রেম এমনকি বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়েও বহুবার গুঞ্জন শোনা গিয়েছে।

২০১০ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্রথমবার পরীমনি বিয়ের পিঁড়িতে বসেন ভোলার ইসমাইল নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে। প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার আগেই তিনি একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। ২০১২ সালের এপ্রিলে যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার বাসিন্দা ফেরদৌস কবীর সৌরভকে বিয়ে করেন পরী। তবে সেই বিয়েও খুব বেশিদিন টেঁকেনি। বিয়ের পর পরীমনির উশৃঙ্খল জীবনযাপন দেখে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন তাঁর দ্বিতীয় স্বামী।

সিনেমা জগতে পা রাখার আগে পরীমনি তাঁর কেরিয়ার শুরু করেছিলেন নাটকে অভিনয় করে। শোনা যায়, সেই সময় সেতু নামের এক ফটোগ্রাফারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। তারা নাকি ২ বছর সংসারও করেছিলেন। তবে সেই সম্পর্ক টেঁকেনি। এরপর রাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার নজরুল ইসলাম রাজের হাত ধরে সিনেমায় নামেন তিনি। সেই সময় রাজের সঙ্গেই থাকতেন পরীমনি এমনটাই শোনা গিয়েছে।

২০১৪ সালে পরীমনি ঢালিউডের এক নম্বর অভিনেত্রী হয়ে ওঠেন। তার ঠিক ২ বছরের মাথাতেই ২০১৬ সালে বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ে তাঁর বিয়ের গুঞ্জন। একই সময়ের মধ্যে একজন নয়, ২ জনের সঙ্গে পরীমনির বিয়ে নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি সকালে একটি ফেসবুক আইডি থেকে কিছু ছবি ফেসবুকে শেয়ার করে দাবি করা হয় যে ইসমাইল নামের এক যুবকের সঙ্গে পরীমনির বিয়ে হয়ে গিয়েছে।

এই ঘটনার ঠিক কয়েকদিনের মধ্যেই তার দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা এবং কিছু ঘনিষ্ঠ ছবি ফাঁস হয়ে যায়। এখানেই শেষ নয়। ২০১৭ সালে তামিম হাসান নামের এক এন্টারটেইনমেন্ট সাংবাদিকের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তামিমের সঙ্গে দেশে-বিদেশে একত্রে ঘুরতেও দেখা যায় তাঁকে। এমনকি তাদের নাকি বাগদান হয়ে গিয়েছে বলেও শোনা যায়। তবে ২০১৯ এ তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায়।

কাট টু ২০২০ সালের ৯ মার্চ। ওইদিন রাতে শোনা যায় অভিনেত্রী ও পরিচালক হৃদি হকের অফিসে কাজি ডেকে তার সহকারী কামরুজ্জামান রনিকে মাত্র তিন টাকা দেনমোহরে বিয়ে করে নেন পরীমনি। সেই‌ বিয়ে টিঁকেছিল মাত্র ৫ মাস। এরপর আবার ব্যবসায়ী ও চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজের সঙ্গেও পরীমনির সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠলে তিনি পলাতক হয়ে পড়েন। পরীমনি এবং তার সম্পর্কের সেখানেই ইতি হয়।

পরীমনির জীবনে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বেরও আগমন ঘটেছিল। বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দলের এক সংসদ সদস্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা প্রসঙ্গে পরীমনির নাম উঠে আসে। বিভিন্ন কারণে পরে অবশ্য সেই সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরীমনির দূরত্ব তৈরি হয়। তবে ততদিনে ক্ষমতাসীন দলের আরও বেশ কিছু নেতা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কিছু শিল্পপতির সঙ্গেও তার সদ্ভাব গড়ে ওঠে।

গত জুন মাসে আশুলিয়ার বোট ক্লাবকাণ্ডে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার মামলা আনেন পরীমনি। সেই মামলার তদন্ত সূত্রেই পুলিশের কর্মকর্তা সাকলায়েনের সঙ্গে তার আলাপ হয়। মামলা চলাকালীন তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই কথা জানাজানি হতেই পুলিশের এই কর্মকর্তাকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর মাদক মামলায় পরীমনি নিজেই জড়িয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি রয়েছেন কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে।