দলবদলকারী প্রত্যেক নেতা কর্মীর উপর নজর আছে! হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো

6
দলবদলকারী প্রত্যেক নেতা কর্মীর উপর নজর আছে! হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো

আসন্ন একুশের বিধানসভা ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলির এখন কার্যত শিয়রে সংক্রান্তি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা দখলের লড়াইয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। ভোট উপলক্ষে রাজনৈতিক দল বদল নতুন কিছু নয়। প্রায় প্রতিটি দলের বহু রাজনৈতিক নেতাই নিজেদের সুযোগ সুবিধা অনুসারে দল বদল করে থাকেন। গোপনে করুন বা প্রকাশ্যে, দলবদলকারী প্রত্যেক নেতা কর্মীর উপর নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বর্তমানে বাঁকুড়ায় জেলা সফরে অংশগ্রহণ করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিনের জেলা সফরে জনসভায় ভাষণ মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের পাশাপাশি তৃণমূল দলের নেতা-নেত্রীদেরও রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, তলে তলে কে কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, তার সমস্ত খবরের উপরেই নজর রয়েছে নেত্রীর। তৃণমূল নেত্রী কার্যত এদিন বুঝিয়ে দিলেন, তার নজর এড়িয়ে কোনো গোপন আঁতাতে যাওয়া সম্ভব নয়।

ভোটের আগে দলবদলে ইচ্ছুক নেতা মন্ত্রীদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, তৃণমূল দলে থাকতে হলে ভোগে নয়, ত্যাগেই বিশ্বাস রাখতে হবে। লোভীদের দলে কোনো জায়গা নেই। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেছেন, সারা রাজ্যের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন তিনি। দলের প্রত্যেক নেতাকর্মীর গতিবিধির ওপর নজর রয়েছে তার। দলীয় কর্মীদের রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, রাতের অন্ধকারে গোপনে গাড়ি নিয়ে কে কোথায় যাচ্ছেন তার সমস্ত তথ্য রয়েছে নেত্রীর কাছে।

এদিন সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, রাজ্যের প্রতিটি ব্লক তার নখদর্পণে। কে কোথায় কি করছেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, তার সমস্ত খবর মুখ্যমন্ত্রী পান। মুখ্যমন্ত্রী এদের “ছাগলের তৃতীয় সন্তান” হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, কিছু দলীয় কর্মীকে ইচ্ছাকৃতভাবে ছাড় দিয়ে রেখেছেন তিনি। তিনি আরো বলেন, এরা যেমন এদিককার খবর ওদিকে পাঠায় তেমন ওদিকের খবর এদিকেও দেয়। উল্লেখ্য, এদিনের সভায় উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, এবার থেকে দলের সমস্ত কার্যকলাপ তিনিই পরিচালনা করবেন। বাঁকুড়া থেকেই সেই কাজ শুরু করলেন মুখ্যমন্ত্রী।