১৫৪ বছরে পা দিল আদি কংস বণিক দুর্গাবাড়ির দুর্গাপূজা

19
১৫৪ বছরে পা দিল আদি কংস বণিক দুর্গাবাড়ির দুর্গাপূজা

মালদা,১ সেপ্টেম্বর : আদি কংস বণিক দুর্গাবাড়ির দুর্গাপূজা পা দিল ১৫৪ বছরে।
আজ থেকে কয়েক শতাব্দী আগেকার কথা, কথিত রয়েছে নিমতলী পাড়া ঘাটে ভেসে আসে একটি পাথরচক্র। স্বপ্ন দেশে এক বৃদ্ধা সেটি লাভ করেন এবং নিজগৃহে নিয়ে গিয়ে দেবী চণ্ডী জ্ঞানে তার পূজা শুরু করেন। অবিশ্বাস্য মনে হলেও বিশ্বাসে যুগ যুগ ধরে মাতৃ বন্দনায় বিশ্বাসী কিছু পরিবার। আনুমানিক ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মহানন্দা নদীর তীরবর্তী অর্থাৎ বর্তমানে মালদা শহরের কুতুবপুর এলাকায় পঞ্চ বণিক সম্প্রদায়ের অথবা শুরু করেন। সেখানে বেবির আরাধনা শুরু করেন আদি কংস বণিক সম্প্রদায়।
পুরা কাল থেকে সেখানে আরাধনা করা হয়। তার কিছুকাল পরেই ওই আশ্চর্য পাথর চক্রটি পাওয়া গিয়েছিল তা দেবী চণ্ডী জ্ঞানে পূজা করা হতো। পরবর্তী সেই পুজোর দায়ভার নেন পুরাতন মালদার তৎকালীন জমিদার গিরজা বাবু এবং সাড়ম্বরে তিনি দূর্গা পূজা শুরু করেন।
শেষ বয়সে তিনি ওই পাথরচক্রটি কংস বনিক সম্প্রদায়ের হাতে তুলে দেন।
ইংরেজি ১৮৬৮ সালে কংস বণিক সম্প্রদায় তাদের পূর্বপুরুষের দান করা জমিতে দূর্গা মন্দির নির্মাণ করেন।
১৮৯৭ সালে ভূমিকম্পে নির্মিত দুর্গামন্দির ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার তাগিদে আজও সেই রূপে ধরে রাখতে সময় মতো মন্দিরের সংস্কার করা হয়। ঐতিহ্যবাহী এই মন্দিরকে ঘিরে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দুর্গা বাড়ি মোড়ের নামকরণ হয়।
পূর্বপুরুষদের অনুসরণ করে একই পরম্পরায় মায়ের আরাধনায় মেতে ওঠেন আদি কংস বণিক সম্প্রদায়ের পরিবার গুলি।
প্রতিবছর ঘটভরা থেকে শুরু করে পুষ্পাঞ্জলি, সন্ধি পূজা, সন্ধ্যা আরতি, বিসর্জন সবই চলে পুরনো প্রথা মেনে।
দূর দুরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসে পুজোর টানে, জাঁকজমকপূর্ণ আধুনিক যুগেও সমহিমায় দাঁড়িয়ে দুর্গা বাড়ি। আজও পুজোতে সপ্তমীর সকালে ঘটভরা, সুসজ্জিত শোভাযাত্রা ও দশমীর দিন বিকেলে মাকে ঘাড়ে করে নিয়ে যাওয়া হয় নিমতলী ঘাটে এবং সেখান থেকে নৌকা করে মিশন ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়। নৌকা ফিরে সদরঘাট এলাকায় ফিরে এসে দেবী প্রতিমা বিসর্জন করা হয়।
সময়ের স্রোতে ভারতে অনেক কিছু বদলালেও বদলাইনি দূর্গা বাড়ির পরম্পরা।
তাই আজও মন্দির প্রাঙ্গনে তৈরি করা হয় দেবী প্রতিমা। সাবেকি মূর্তির পূজা করা হয় দুর্গা বাড়ি মন্দিরে।