আচমকা লকডাউন হওয়ায় ভুটান থেকে হাঁটা পথেই বাংলায় ফিরলেন ৩৮ জন পরিযায়ী শ্রমিক

20
আচমকা লকডাউন হওয়ায় ভুটান থেকে হাঁটা পথেই বাংলায় ফিরলেন ৩৮ জন পরিযায়ী শ্রমিক

করোনার ভয়ঙ্কর প্রভাবে জর্জরিত সারা বিশ্ব। ভারতবর্ষের পাশাপাশি ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভুটানেও মারণ ভাইরাসের প্রভাব প্রতিপত্তি বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তাই ভুটান সরকার সেই দেশে লকডাউন চালু করতে বাধ্য হয়েছে। লকডাউন এর প্রভাবে পরিযায়ী শ্রমিকদের সবথেকে বেশি নাজেহাল হতে হয়। ভুটানেও তার অন্যথা হয়নি। আচমকা লকডাউন ঘোষণা হওয়াতে কাজ হারিয়ে সকলেই এখন বাড়ির পথে।

তবে লকডাউন পর্বে যাতায়াত ব্যবস্থা বিঘ্নিত। এদিকে বাড়ি ফেরার তাগিদে তাই হাঁটা পথ ধরতে হয়েছে তাদের। ভুটানের ৩৮ জন শ্রমিক ভুটান থেকে হাঁটতে শুরু করে নদী পথ পেরিয়ে, অনেকটা রাস্তা পায়ে হেঁটেই অতিক্রম করে শেষমেষ আলিপুরদুয়ার জেলায় পৌঁছতে সক্ষম হলেন। গত বছরেও আচমকা লকডাউন হয়ে যাওয়াতে পরিযায়ী শ্রমিকদের নাজেহাল হতে হয়েছিল। সেই স্মৃতি কার্যত উস্কে দিলেন তারা।

করোনা পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হতেই কাজের তাগিদে ভুটানের চুখাতে কাজের খোঁজে গিয়েছিলেন বাংলার ৩৮ জন পরিযায়ী শ্রমিক। দৈনিক ৫০০ টাকা করে পারিশ্রমিকের চুক্তিতে তারা সেখানে কাজ করতে শুরু করেন। বিগত দুই মাস ধরে তারা সেখানেই কাজ করছিলেন। ১৭ই এপ্রিল থেকে লকডাউন চালু হওয়াতে তারা সমস্যার মুখে পড়ে যান।

কাজ হারিয়ে বিদেশে তারা অর্থশূন্য পড়েছিলেন। তার উপর আবার স্থানীয় ঠিকাদার তাদের করোনা পরীক্ষা করানোর জন্য ৩০০০ হাজার টাকা দাবি করছিল। সবদিক বিবেচনা করে তাই ভুটান থেকে আবার দেশে ফিরে আসার দুসাহসিক সিদ্ধান্ত নেন তারা। বাস কিংবা ট্রেনের অভাবে হেঁটেই বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তারা। সেইমতো গত বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গ ভুটান সীমান্ত সংলগ্ন আলিপুরদুয়ারে উপস্থিত হয়েছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা‌।