করোনা আতঙ্কের মধ্যেই নতুন বিপদ ‘মিস-সি’ ! উদ্বিগ্ন রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর

22
করোনা আতঙ্কের মধ্যেই নতুন বিপদ 'মিস-সি' ! উদ্বিগ্ন রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর

একেতো করোনার দাপটে গত দেড় বছর ধরে মানুষ ভয়ে আতঙ্কে অতিষ্ট, তার উপর আবার বাংলায় “মিস-সি” নামক নতুন বিপদের আনাগোনা। মিস-সি (MIS-C)-র পুরো নাম মাল্টি সিস্টেম ইনফ্ল্যামেটরি সিনড্রম (Multisystem Inflammatory Syndrome) । চিকিত্‍সকদের মতে, মিস-সি মূলত কোভিড পরবর্তী ক্লিনিক্যাল সিনড্রম। এখনও অবধি কমপক্ষে ২০ জন শিশুর শরীরে এই রোগের উপস্থিতি লক্ষ্য করার কারণে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে তাদের। সেখানেই তাদের চিকিৎসা চলছে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, করোনার উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে তারা।

এদের অধিকাংশের ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে বাড়িতে কেউ না কেউ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তার প্রভাব পড়েছে শিশুদের শরীরেও। জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, এমনকী গায়ে-হাতে লাল দাগ, বমি, পাতলা পায়খানার উপসর্গও দেখা যাচ্ছে শিশুদের মধ্যে। আপাতত এই সব উপসর্গের মূল কারণ এই মিস-সি।

করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের সম্ভাবনা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বহুমাত্রায়। প্রথম দিকে শোনা গিয়েছিল, সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউয়ের প্রভাব বেশিমাত্রায় পড়তে পারে বাচ্চাদের ওপর। যদিও পরবর্তী কালে বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী সেই তত্ত্বের কিছু পরিবর্তন হয়েছে। শিশুদের মধ্যে করোনা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা নিয়ে নানা স্বস্তিদায়ক গবেষণাও সামনে এসেছে। তবে এসবের মধ্যেই মালদহের এই নতুন বিপদ যেন ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে।

যদিও মিস-সি’র সঙ্গে করোনার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই বলেই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মালদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান সুষমা সাহু জানান, এই মুহূর্তে মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মিস-সি আক্রান্ত ২০টি শিশুর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে মার্চ, এপ্রিল ও মে- এই তিন মাসে তাদের বাবা, মা কিংবা বাড়ির লোকজন কোভিড আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেই সময় বাচ্চা তাদের সান্নিধ্যে আসলেও বাচ্চাদের মধ্যে করোনার কোনো উপসর্গ ধরা পড়েনি। উপসর্গ না থাকায় তাদের করোনা পরীক্ষা করাও হয়নি।

কিন্তু এখন সেই বাচ্চাদের মধ্যে নানারকম সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এই উপসর্গগুলি বাচ্চাদের মধ্যে দেখা দিলেই তাদের যেন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এই উপসর্গের মানেই করোনা বা মিস-সি তে আক্রান্ত হয়েছে এমনটাও ধরে নেওয়া ঠিক হবে না বলেই জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, মিস-সি করোনা পরবর্তী ক্লিনিক্যাল সিনড্রম। এটা দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাবে হচ্ছে।

এছাড়া তিনি আরও বলেন, “বাচ্চাদের এখনও যেহেতু ভ্যাকসিন দেওয়া হয়নি, তাই ওদের নিয়ে একটা আলাদা চিন্তা রয়েছেই। যতদূর আমার মত, এখনও পর্যন্ত বাচ্চাদের মধ্যে করোনার প্রভাব পড়েনি। বরং মাল্টি সিস্টেম ইনফ্ল্যামেটরি সিনড্রমে এখন বাচ্চারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। গত এক মাস ধরে মালদহ মেডিকেল কলেজে আমরা এরকম উপসর্গযুক্ত বাচ্চা বেশি করে পাচ্ছি। তবে চিকিত্‍সাও ইতিমধ্যে শুরু করা হয়েছে। তাই অহেতুক চিন্তার কোনো কারণ নেই।”