আরাধ্য দেবতার মতো কুকুরেরও পূজা হয় এই মন্দিরে

41
আরাধ্য দেবতার মতো কুকুরেরও পূজা হয় এই মন্দিরে

সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা অনেক অদ্ভুত বিষয় সম্পর্কে জানি যা কোনোদিনই হয়তো জানা সম্ভব হতো না যদি না এই সোশ্যাল মিডিয়া থাকত। তেমনই একটি অদ্ভুত বিষয় সম্পর্কে জেনে, একটি অদ্ভুত ভালো লাগা মানুষের মনে জন্মাবে, মানুষকে নতুন করে ভাবতে সাহায্য করবে।

সম্প্রতি জানা গেছে, নানা দেবদেবীর মূর্তির মতো কুকুরের জন্য মন্দির আছে যেখানে, আরাধনা করা হয় কুকুরের। আমরা সকলেই জানি কুকুর অত্যন্ত প্রভুভক্ত, নিজে প্রভুর জন্য সে নিজের জীবনটাও দিতে পারে। কোন মানুষ বেইমানি করলেও কুকুর কখনো বেইমানি করে না। সেই মন্দিরে এখনো আরাধ্য দেবতা। মন্দির সম্পর্কে জানা যায়, এটি রয়েছে ছত্রিশগড়ে, সেখানকার দুর্গ জেলার খুপরি গ্রামে অতি প্রাচীন এই মন্দির, মন্দিরটি তৈরি হয়েছিল প্রায় ১৪ থেকে ১৫ শতকে। সেই সময়ে প্রচলিত মিথ অনুযায়ী সেখানকার এক বাসিন্দার এ কুকুর ছিল, গ্রামে একবার দুর্ভিক্ষের সময় দেখা দিলেন কুকুরটি কে বন্ধক দিয়েছিল সুদখোর কারবারের এক লোকের কাছে, তারপরে ওই সুদের কারবার এর লোকের বাড়ি একবার চোর এসেছিল।

সেই কুকুরের আওয়াজ চোর পালিয়ে যায়, চুরি করতে পারেনি এবং কুকুরটি যাবতীয় সম্পত্তি উদ্ধার করেছিল। কিন্তু লোকটি কুকুরটি তার প্রতি নিষ্ঠা ও ভালোবাসা দেখে তার মনে সহানুভূতি জন্মায় এবং সে কুকুরটিকে মুক্তি দেন কিন্তু মুক্তি দেওয়ার সাথে কুকুরটির গলায় সে কথাগুলো লিখে ঝুলিয়ে দেয়। কিন্তু কুকুরটি পরে পথ চিনে নিজের বাড়ি ফিরে এলে আগের মালিক কুকুরটিকে লাঠির আঘাতে পিটিয়ে হত্যা করে, পরে সেই কাগজটি দেখতে পায় এবং পড়ে নিজের অনুশোচনা করতে থাকে।

তাই সেই অনুশোচনার ফলে প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ তিনি সেই কুকুরের নাম একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করে এবং সেখানে আজব ভক্তিভরে কুকুরকে পূজিত করা হয়। তবে এর সাথে একটি বিশ্বাসে জড়িত আছে তা হলো, ভক্তিভরে পুজো করলে এই গ্রামে কুকুরের উৎপাত কখনো হবে না। এবং কেউ জলাতঙ্ক রোগে ভোগবে না। সেই পুরাতন বিশ্বাস কি আজও সেখানকার মানুষ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে চলে যা, আমাদের ভারতবর্ষের সংস্কৃতি।