সম্প্রতি ‘বান্ধবী’ পদে চাকরি দেবে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সাড়া ফেলে দিয়েছেন চিকিৎসক নাকিব

11
সম্প্রতি 'বান্ধবী' পদে চাকরি দেবে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সাড়া ফেলে দিয়েছেন চিকিৎসক নাকিব

বিবাহযোগ্য পুত্র অথবা কন্যার জন্য সংবাদ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেওয়া নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন ম্যাট্রিমনিয়াল সাইট গুলো ইদানিং এই বিষয়ে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। আজকাল একেবারে ছাদনাতলায় প্রথম দেখা এই জিনিসটি একেবারেই নেই। তার থেকে বরং আগে থেকে জেনে বুঝে নেওয়া টা অনেক ভালো। প্রথমে একে অপরকে ভালোভাবে চিনে যদি মনে হয় একসাথে থাকা যাবে, তবেই মানুষ পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা চিন্তা করে।

এমতাবস্থায় ম্যালেরিয়া চিকিৎসক নাকিব বান্ধবী পদে চাহিদাকে কর্মখালি বলে উল্লেখ করে রীতিমতো সোশ্যাল মিডিয়ায় সাড়া ফেলে দিয়েছেন। কিছুদিন আগে তিনি টুইটারে পোস্ট করেন এক অদ্ভুত বিজ্ঞাপন। প্রেমিকাকে কেমন হতে হবে শুধু সেটা জানাতে নয়, প্রেমিক হিসাবে তিনি নিজে কতটা ঠিক, সেটাও জানিয়েছেন বিস্তারিত ভাবে। নিজের সমস্ত পছন্দ-অপছন্দ খুঁটিনাটি সব কিছু জানিয়েছেন তিনি। যারা আবেদন করবেন, তারা কেন তাকে বেছে নেবেন সে হিসেবেও খোলাখুলি তিনি জানিয়েছেন তার মতামত। তার বিস্তারিত তথ্য দিয়েই পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন। শিরোনামে তিনি দিয়েছেন একটি নাম,”আপনি কেন আমার সঙ্গে ডেটে যাবেন”?

নাকিব মানুষটা বড্ড সোজাসাপ্টা মানুষ। এমবিবিএস ডিগ্রিধারী এই মানুষটি রান্না করতে যেমন জানেন তেমন ভালোবাসেন কেক খেতে। তবে এটা জিনিসপত্র জানিয়ে দিয়েছেন যে, তার অন্যতম গুণ হলো তিনি সবসময় সাথে একটি চকলেট বার রাখেন। অর্থাৎ চকলেটের প্রতি তার আলাদা একটি আগ্রহ আছে। গান বাজনার সখ আছে তবে তার মা মনে করেন যে তিনি গানের থেকে চিৎকার করেন বেশি।

নিজের একটা গাড়ি থাকলেও নিজেকে গরিব বলতে একটুও দ্বিধাবোধ করেননি তিনি। আইফোন থাকলেও সেটা খুব একটা দামি মডেলের নয়। এমনকি নিজেকে খুব একটা সুন্দর বলে দাবি করতে নারাজ নাকিব। নিজের উচ্চতা নিয়ে খুব একটা খুশি নয় বলেই জানিয়েছেন তিনি। আসলে প্রেমিক হিসাবে তাকে গ্রহণ করার কি কি কারণ থাকতে পারে সেটা জানানোর সঙ্গে সঙ্গে তাকে বাতিল দেবার কি কি যুক্তি সাজানো যেতে পারে সেটা নিজেই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন সকলকে।

মনের মত বান্ধবী বাছাই করাকে একটি কাজ বলেই মনে করেন চিকিৎসক নাকিব। টুইটারে তিনি একটি lady-love বলে কর্মখালি কথা বলেছেন। কাজে আবেদন করতে গেলে হতে হবে সুশিক্ষিতা, হতে হবে পরিণত মানসিকতার এবং টেবিল ম্যানার জানতে হবে। এর জন্য ঠিক কত বেতন পাওয়া যাবে সেটা এখনো স্পষ্ট নয়। বেতন পারফরমেন্স এবং জন্মদিনের উপহারের ওপর নির্ভর করবে।

আবেদনকারীকে এমন কিছু পরিশ্রমের কাজ করতে হবে না। ডাক্তারবাবুকে সারাদিন সঙ্গ দিতে হবে, তার মজার মজার জোকস শুনে হাসতে হবে। প্রথমে পারিবারিক অনুষ্ঠানে না গেলেও চলবে। প্রথম রাউন্ডে কোয়ালিফাই করার পর আরও কিছু মাস পর ঠিকঠাক পারফরম্যান্স দেখে হবু বউ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হবে তাকে। তার এই অদ্ভুত টুইট দেখে ইতিমধ্যেই হাসিতে লুটোপুটি খাচ্ছে নেটিজেনরা।