জানেন কি এই ধনতেরাসে যমের পুজো করা হয় কেন? দেখে নিন

10
জানেন কি এই ধনতেরাসে যমের পুজো করা হয় কেন? দেখে নিন

ধনতেরাস এক সময় অ-বাঙালিদের মধ্যে প্রচলিত রীতি ছিল। যদিও আজকাল এই বাঙালি-অ-বাঙালি কোনো ভেদাভেদই নেই। আজকের যুগে বাঙালি-অ-বাঙালি নির্বিশেষে প্রত্যেকেই এই উৎসবে পুরোদমে মেতে ওঠেন। মূলত কালীপুজোর আগের দিন এই উৎসব পালন করা হয়। ধনতেরাস এর ধন শব্দের অর্থ হল সম্পত্তি। আর ত্রয়োদশী শব্দের অর্থ হল ক্যালেন্ডারের ১৩ তম দিন। হিন্দুদের একটি অন্যতম উৎসব হল ধনতেরাস বা ধনো ত্রয়োদশী। দীপাবলির সময় যে লক্ষ্মী পুজো হয় তার দুদিন আগে ধনতেরাস পালিত হয়। তবে জানেন কি এই ধনতেরাসে যমের পুজো করা হয়! আজকের প্রতিবেদনে তার কারণই জানাব আপনাদের।

একাধিক প্রাচীন বই ঘেঁটে জানা গেছে যে, এদেশে হীমা নামে এক রাজা ছিলেন। তাঁর পুত্র সন্তান জন্ম নেওয়ার পর জ্যোতিষীরা ভবিষ্যদ্বাণীর মাধ্যমে রাজাকে সাবধান করেন যে, এই ছেলের যেদিন বিয়ে হবে, তার ঠিক চারদিন পরেই তাঁর মৃত্যু হবে। একথা শুনে রাজা এতটাই ভয় পেয়ে যান যে ছেলে বড় হওয়ার পর তাঁর ত্রিসীমানায় কোনো মেয়েকে আসতে দিতেন না। কিন্তু ঘটনা চক্রে রাজপুত্র একদিন এক রাজকন্যার দেখা পান। প্রথম দেখাতেই প্রেম, আর তারপরেই সেই সম্পর্ক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।

বিয়ের দিন রাজার মুখে সব শুনে সেই রাজকন্যাও বেজায় ভয় পেয়ে গেলেন। কিন্তু একই সঙ্গে নিজেকে কথা দিলেন, যে করেই হোক তাঁর স্বামীর প্রাণ বাঁচাবেই। বিয়ের চতুর্থ দিন রাত্রিবেলা বাড়ির সদর দরজার সামনে রাজকন্যা তাঁর সমস্ত গয়না খুলে রেখে তার চারিদিকে প্রদীপ জ্বালিয়ে দিলেন। আর সেই সঙ্গে রাজপুত্রকে জাগিয়ে রাখলেন। মাঝরাতে সাপের বেশ ধারণ করে যখন যমরাজ প্রাসাদের সদর দরজার সামনে আসেন, তখন সোনার গয়নার ঝলকানিতে তাঁর চোখ ধাঁধিয়ে যায় এবং কিছু দেখতে না পেয়ে প্রাসাদে না ঢুকেই ফিরে যান। রাজকন্যার এহেন চেষ্টায় রাজপুত্রের প্রাণ বেঁচে যায়।

এই ঘটনাটি ঘটেছিল আশ্বিন মাসের ত্রয়োদশতম দিনের রাতে, আর সেটি ছিল কৃষ্ণপক্ষ। সেই থেকেই এহেন বিশ্বাস রয়েছে যে আশ্বিন মাসের এই তিথিতে যমরাজের পুজো করলে আকস্মিক মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। পরবর্তীকালে এই দিনটিই ধনত্রয়োদশী বা ধনতেরাস নামে সারা দেশে পরিচিতি লাভ করে।