জানেন কি নবজাতক শিশুর কোন কোন পরীক্ষা করা বাঞ্ছনীয়? দেখে নিন

29
জানেন কি নবজাতক শিশুর কোন কোন পরীক্ষা করা বাঞ্ছনীয়? দেখে নিন

প্রত্যেক নারীর ক্ষেত্রে মা হওয়া একটি বিশাল ভাগ্যের ব্যাপার। কিন্তু আপনার নবজাতক সুস্থ আছে কিনা তা জানার জন্য কিছু জরুরী টেস্ট করে নিতে হয়। এই টেস্ট শিশুর জন্মের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই করে ফেলতে হয়। তবে সমস্ত পরীক্ষা হাসপাতালে হয় না, আবার কিছু কিছু টেস্ট বাবা-মা করতে চান না। এখানেই ভুল হয়ে যায় যার ফলে বড়সড়ের আসল গুনতে হয় পরবর্তীকালে। আজ আমরা জেনে নেব কোন কোন টেস্ট করলে আপনার শিশু আর পাঁচটা বাচ্চার মত বড় হয়ে উঠতে পারে স্বাভাবিকভাবেই।

জন্মের পর যে টেস্ট করতে হবে:

শিশু ভুমিষ্ট হওয়ার পর টিপ টু টো এক্সামিনেশন করতে হবে। এর দ্বারা চিকিৎসকদের নির্দেশ মেনে মাথার তালু থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত পরীক্ষা করা হয়। এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক কি টেস্ট রয়েছে এখানে।

প্রথমেই আসে মাথার আকার এবং ওজনের সঠিক পরিমাপ করা। মাথার তালু খোলা না থাকলে মস্তিষ্কের বিকাশ হয় না ভালোভাবে।

চোখে যে আলো প্রবেশ করে তার দ্বারা দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা হয় যাকে বলা হয় রেড রিফ্লেক্স।

জন্মের পর শ্রবণ শক্তি পরীক্ষা করা হয় যাকে বলা হয় ইউনিভার্সেল নিউবর্ন হিয়ারিং স্কিনিং। যেকোনো বয়স এই পরীক্ষা করতে পারেন আপনি।

নবজাতক শিশুর তালুকাটা আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়।

পরবর্তী ধাপে হার্ট এবং ফুসফুসের পরীক্ষা করা হয়ে যা ভীষণভাবে জরুরী। ফুসফুসের কোন সমস্যা থাকলে অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকে এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি তীব্র হয়। বড় কোন ত্রুটি থাকলে জন্মের সময় জানা যায় এবং ছোট ত্রুটি থাকলে জন্মের দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রকাশ পায়।

পেটের পর্যবেক্ষণ হাত দিয়ে করে চিকিৎসকরা লিভার এবং কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রমের আন্দাজ করতে পারেন। কোন শিশুর প্রস্রাব কম হলে বা অস্বাভাবিক ফুলে গেলে কিডনির সমস্যা আছে বলে মনে করা হয়।

জিনগত সমস্যা নির্ধারণে জন্মের ৩ দিনের মাথায় থাইরয়েড টেস্ট করা হয়। কোন শিশুর যদি সঠিক সময় থাইরয়েড পরীক্ষার না হয় তাহলে তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যায়। বিদেশে অনেক প্রকার জেনেটিক্যাল পরীক্ষা করা হয় কিন্তু আমাদের ভারতবর্ষে তেমন কোনো পরীক্ষা করার নিয়ম নেই।

অটিজম এড়াতে খেয়াল রাখতে হবে:

প্রথম পর্যায়ে রোগ নির্ণয় ভীষণভাবে জরুরি এ ক্ষেত্রে। সর্বদা লক্ষণের উপর নজর দিতে হবে যেটা তিন বছরের মধ্যেই প্রকাশ পায়। সাধারণত শিশু স্তন দুগ্ধ পানির সময় মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে খায়। কিন্তু অটিজম শিশুরা নিজের জগতে ব্যস্ত থাকে। মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেনা এবং সামাজিকীকরণে ব্যর্থ হয়। অনেকে বন্ধুদের থেকে আলাদা থাকে এবং একাকীত্ব পছন্দ করে। বাহ্যিক লক্ষণ গুলো সম্পর্কে বাবা-মাকে আগে থেকেই সজাগ থাকতে হবে তবে অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে কথা বলতে হবে চিকিৎসকদের সঙ্গে।

জন্ম থেকে দুমাস পর্যন্ত শিশুর শারীরিক কার্যক্রম ঠিক আছে কিনা দেখে নিতে হবে। কাঁদলে স্কুলে তুললে চুপ করে যাচ্ছে কিনা বা কথা বলে তাকিয়ে থাকছে কিনা এই অভিব্যক্তি ভালো করে লক্ষ্য রাখতে হবে। জন্মের প্রথম পর্যায়ে শিশুর কোন অঙ্গে দুর্বলতা বা অসুস্থতা ধরা পড়লে তা চিকিৎসা করা সম্ভব এবং তাড়াতাড়ি সমাধান করা সম্ভব।।

যে বিষয়গুলি নজর রাখতে হবে:

জন্মের এক থেকে তিন মাসের মধ্যে কারোর কথা শুনে তার দিকে তাকাচ্ছে বা হাসছে কিনা।

দেড় থেকে সাড়ে তিন মাসের মধ্যে কোন বস্তুর প্রতি আকর্ষণ হচ্ছে কিনা দেখতে হবে।

৬ মাস বয়সী শিশু পেছন থেকে পেট এবং বুকে ভর দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যায় এবং ঘন্টা জাতীয় শব্দে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে এই সমস্ত যদি না করে তাহলে এখন থেকেই সজাগ হয়ে যান।

পাঁচ মাস থেকে হাতে জিনিস নেওয়া এবং দেওয়া শুরু করবে।

সাত মাসে নিজে বসার চেষ্টা করবে এবং ফার্নিচারকে অবলম্বন করে ধারাতে চেষ্টা করবে।

১০ থেকে ১২ মাস বয়সে অন্যের সাহায্যে হাঁটতে শুরু করবে এবং ১৫ মাস থেকে আস্তে আস্তে নিজে হাঁটবে এবং সিঁড়ি দিয়ে ওটা নামা করবে।

এই সমস্ত লক্ষণ শিশু বিশেষে অল্প পাল্টে যেতে পারে কিন্তু বড্ড বেশি বিলম্ব হলে অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে।