জানেন কি একটি বাচ্চা সুস্থ ভাবে বেড়ে ওঠার জন্য দাদু এবং ঠাকুমার সহচর্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ

17
জানেন কি একটি বাচ্চা সুস্থ ভাবে বেড়ে ওঠার জন্য দাদু এবং ঠাকুমার সহচর্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ

আমাদের সমাজ আস্তে আস্তে একান্নবর্তী পরিবার থেকে কমে গিয়ে নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি তে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। যেখানে আমরা দাদু দিদা অথবা ঠাকুরদা ঠাকুরমা সাথে সময় কাটাতে পারি না। তবে অতীতে বেশিরভাগ পরিবার একান্ন বর্তী হওয়ায় ছোট রাজা ঠাকুমা সহচর্যে বেড়ে উঠত। তাদের জীবনটা বেশিরভাগ জুড়ে থাকতো ঠাকুরমা ঠাকুরদার আদর। কিন্তু এখন ছোট পরিবার হয়ে যাওয়ার ফলে খুব কম সময়ে বাচ্চারা তার ঠাকুরমা ঠাকুরদা কে কাছে পায়।

তবে বিজ্ঞান মতে, একটি বাচ্চা সুস্থ ভাবে বেড়ে ওঠার জন্য শুধু বাবা মা না, পাশাপাশি সমানভাবে প্রয়োজন দাদু এবং ঠাকুরমা সহচর্য। যে শিশু দাদু এবং দিদার সঙ্গে বড় হয় তারা অন্য সাধারণ শিশুদের থেকে আলাদা হয়। এই বাচ্চারা সবাইকে নিয়ে একসাথে বাঁচতে শিখতে পারে, অন্যদের সম্মান করা অথবা প্রতিটি পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে। কেবলমাত্র এটি না, বাচ্চাদের আচরণগত বিকাশের পাশাপাশি দাদু এবং ঠাকুমার স্বাস্থ্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সুখকর এবং নিরাপদঃ সাধারণত যে বাবা মায়েরা নিজেদের কাজে ব্যস্ত থাকে, তাদের বাচ্চাদের লালন-পালন করার জন্য দাদু এবং ঠাকুরমা থাকাটা খুব জরুরি। দাদু এবং ঠাকুর মা সন্তানকে নিজের সন্তানের মত খেয়াল রাখেন এবং যত্ন করেন। বাবা-মা নিজেদের কাজে যখন ব্যস্ত হয়ে থাকেন, তখন দাদু ঠাকুমা নাতি নাতনীদের কাছে সেরা বন্ধু হয়ে থাকে। এবং দাদু এবং ঠাকুমার কাছে বাচ্চারা সব থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে বড় হয়।

তারা অনেক কিছু শেখায়ঃ দাদু এবং ঠাকুমার কাছে বাচ্চারা তাদের পারিবারিক ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারে। ন্যায়, নীতি, সামাজিক মূল্যবোধ, সংস্কৃতি,আবেগে এই সব কিছুর প্রথম শিক্ষা তারা পায় দাদু এবং ঠাকুরমার কাছ থেকে। এই শিক্ষা তাদের বড় হয়ে সঠিক পথ চিনতে সাহায্য করে।

মানসিক বিকাশঃ বাচ্চারা যখন দাদু ঠাকুমার সঙ্গে বেশি সময় কাটায়, তখন তাদের মানসিক বৃদ্ধি বাড়ে। এই শিশুদের সাধারণত কোন ধরনের আচরণগত সমস্যা হয় না। বয়সের সাথে সাথে এই বাচ্চাটা সবকিছু সামলে নিতে পারে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা পরিচালিত একটি সমীক্ষা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, দাদু এবং দিদার কাছে যে শিশুরা বড় হয়, তারা একাকীত্ব, রাগ অথবা হতাশার বোধ অনুভব করে না। এই জাতীয় শিশুরা প্রতিটি সময় নতুন করে বাঁচতে শিখে যায়।

নৈতিকতাঃ প্রতিটি পিতা এবং মাতার প্রথম প্রাথমিক দায়িত্ব থাকে, তাদের সন্তানকে ভালো অভ্যাস গুলি শেখানো। তেমন দাদু দিদা এই একই কাজ করে থাকেন। তারা বাচ্চাদের অনেক নীতিমূলক গল্প বলেন, যার দ্বারা বাচ্চা শিখতে পারি কোনটা সঠিক এবং কোনটা ভুল। এর ফলে তারা একটি সুন্দর পরিবেশে বেড়ে ওঠে।

দাদু এবং ঠাকুরমা খুশি থাকেঃ বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটাতে গেলে দাদু এবং দিদা খুবই খুশি হন। পাশাপাশি দাদু দিদা তাদের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা করার সময় পান না। তারা কোনো বয়স জনিত অবসাদে ভোগেন না। একাকীত্ব অনুভব হয় না তাদের।নাতি এবং নাতনিকে সামলাতে গিয়ে তাদের বেশির ভাগ সময় কেটে যায়। বয়সের সাথে সাথে যখন তারা বিভিন্ন রোগের শিকার হন, তখন শুধুমাত্র নাতি নাতনি সেই রোগ থেকে আপনাকে মানসিকভাবে মুক্তি দিতে পারে।