প্লাস্টিক পাত্রে বা বোতলে গঙ্গা জল রাখেন? জানুন কি ক্ষতি হতে পারে

4
প্লাস্টিক পাত্রে বা বোতলে গঙ্গা জল রাখেন? জানুন কি ক্ষতি হতে পারে

হিন্দুদের কাছে গঙ্গা হল পরম পূজ্য একটি দেবী। আর গঙ্গা নদীর জল হল পবিত্রতার বারিধারা। যেকোনো অশুচি, অপবিত্রতাকে ধূয়ে মুছে পরিষ্কার করে দেবার মত ক্ষমতা আছে গঙ্গা জলের। যে কোনো অপবিত্র থাকে মোছার জন্য গঙ্গাজলের প্রবর্তন প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে কেন? এর পিছনে কি কারন আছে? গঙ্গোত্রীর গোমুখ গুহা থেকে উৎপন্ন হয় গঙ্গা নদী। গঙ্গার জল অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল বা জীবানুনাশক উপাদানে সমৃদ্ধ। যেকোনো জীবাণুকে ধ্বংস করার মত ক্ষমতা আছে গঙ্গাজলের।

প্রাচীনকাল থেকে হিন্দুদের বাড়িতে সন্ধ্যা দেওয়ার রীতি প্রচলিত আছে। বিকাল ও সন্ধ্যায় সন্ধিক্ষণে বাড়ির মূল দরজার সামনে গঙ্গার জল ছিটিয়ে ভগবানের উদ্দেশ্যে সন্ধ্যা প্রদীপ দেখানো হয়। বাড়ির মূল দরজার সামনে গঙ্গাজাল ছিটানো হয় কারণ বাইরের জীবাণু যাতে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করতে না পারে। জীবাণুকে নষ্ট করে দেয় গঙ্গা জল। তাই হিন্দুদের ঠাকুরঘরে গঙ্গা জল হল একটি প্রয়োজনীয় বস্তু।

বর্তমান যুগে প্লাস্টিকের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই অনেকে ঠাকুর ঘরে গঙ্গাজল রাখেন প্লাস্টিক পাত্রে বা বোতলে। কিন্তু জানেন কি এতে কী ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে আমরা? প্লাস্টিকের বোতলে গঙ্গাজল রাখলে জলের জীবানুনাশক গুণটিই নষ্ট হয়ে যায়। প্লাস্টিকের বোতল তৈরি হয় নন-বায়োডিগ্রেডেবল পলিমার যেমন- পলিপ্রপলিন, পলিকার্বোনেট, অর্গানিক পেন্ট, পিভিসির মতো উপাদান দ্বারা।

কিছুদিন পর থেকে ওই প্লাস্টিক বোতলের প্লাস্টিক প্যালেট, ফিলার্স, ফোটো স্টেবিলাইজার, অক্সিডাইজিং প্রভৃতি কেমিক্যালস গুলো গলতে শুরু করে। এ কেমিক্যাল গুলো গঙ্গা জলের সঙ্গে মিশে গঙ্গাজল কে বিষাক্ত তৈরি করে।এই গুলো পান করার ফলে মানব দেহ নানা রোগের শিকার হচ্ছে যেমন– ত্বকের নানা সমস্যা পচন তন্ত্রের সমস্যা এমনকি ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।