পরিবারের সুখশান্তি বজায় রাখতে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন করুন এই কাজ

13
পরিবারের সুখশান্তি বজায় রাখতে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন করুন এই কাজ

সোনা কেনার জন্য বছরের দুটি দিনকে শুভ দিন বলে বিবেচনা করা হয় – ১) ধনতেরাস, ২) অক্ষয় তৃতীয়া। মনে করা হয় এই দুই দিনে সোনা কিনলে ঘরে মা লক্ষ্মী প্রবেশ করেন এবং বাড়ির সদস্যদের উন্নতি হয়। ধনতেরাস হয় কার্তিক মাসে দীপাবলির আগের দিন, আর অক্ষয় তৃতীয়া হয় বৈশাখ মাসে। প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শুক্লাপক্ষের তৃতীয়া তিথিতে পালিত হয় অক্ষয় তৃতীয়া। চলতি বছরের ৩ রা মে অক্ষয় তৃতীয়া। ২০২২-এর পুজোর মুহুর্ত পঞ্চাঙ্গ অনুযায়ী ৩ মে অর্থাৎ মঙ্গলবার সকাল ৫:১৮ এ এই তিথি পড়ছে এবং এর সময়কাল ৪ মে সকাল ৭:৩২ পর্যন্ত। এই দিনে ভগবান বিষ্ণুর পুজো করলে তার শুভ মুহুর্ত সকাল ৫:৩৯ থেকে দুুপুর ১২:১৮ অবধি থাকছে৷

অক্ষয় তৃতীয়ার অর্থ হল এই তৃতীয়া তিথির কোনো ক্ষয় নেই৷ অর্থাৎ এই দিনে আপনি যা অর্জন করবেন তা অক্ষয় থেকে যাবে৷ তার কখনও কোনো ক্ষয় হবে না। কাশীর জ্যোতিষাচার্য চক্রপাণি ভট্টের কথায়, এই শুভ সময়ের জন্যই অক্ষয় তৃতীয়াতে সোনা ও রুপো কেনা হয়।

অক্ষয় তৃতীয়ায় কেনা সোনা, গয়না, রুপো, সব অক্ষয় হয়ে থাকে সংসারে৷ মা লক্ষ্মীর কৃপায় ধণ স্থির হয়৷ তা কখনই কমে যায় না৷ বরং আপনাআপনিই বৃদ্ধি হতে থাকে৷ অনেকে আবার এই দিনেই গাড়ি, বাড়ি, সম্পত্তিও কেনেন৷ যাতে সব সম্পত্তিতেই বিপুল বৃদ্ধি হয়৷ সোনা বা রুপো কেনার পাশাপাশি নিজের পরিবারের সুখশান্তি বজায় রাখার জন্য এবং পরিবারের ভালোর জন্য অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে কিছু জিনিস দান করতে হয়। তবে চলুন দেখে নেওয়া যাক এই বিশেষ দিনে কি কি দান করতে হবে।

• এই পুণ্য তিথিতে যব দান করতে পারেন, কারণ এটিকে প্রাচীনতম অন্ন হিসেবে গণ্য করা হয়৷ হিন্দু শাস্ত্রে যবের মাহাত্ম্য সোনার সমান৷

• অক্ষয় কলস – একটি কলসে জল ভরে তা যদি ব্রাহ্মণকে দান করেন তাহলে সংসারে সুখ, শান্তি উপচে পড়ে৷ তাই এই বিশেষ তিথিতে তা দান করতে পারেন৷

• অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে কোনও দুঃস্থ মানুষকে অন্নদান করলে পুণ্যফল লাভ হয়৷

• হিন্দু ধর্মে গোমাতার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাই এই বিশেষদিনে গোদান করলে পরিবারের মঙ্গল হয়৷

• এমনকি এই দিনে গুড়, ঘি, নুন দান করলেও সমৃদ্ধি আসে৷ তাই এই বস্তুও নিজের সাধ্যমতো দান করতে পারেন৷

• এই বিশেষদিনে কোনো ব্রাহ্মণকে তিল ও বস্ত্র দান করতে পারেন৷ তাহলে জীবনের অনেক কঠিন সময় সহজেই পার করা সম্ভব।