জানেন কি কামসূত্রে’র রচয়িতা আদতে ছিলেন একজন ব্রহ্মচারী! জানুন তার সম্পর্কে

22
জানেন কি কামসূত্রে'র রচয়িতা আদতে ছিলেন একজন ব্রহ্মচারী! জানুন তার সম্পর্কে

সবারই কমবেশি জানা আছে পৃথিবীতে সব থেকে বেশি বিক্রি হয়েছে কামসূত্র বই৷ কামসূত্র লিখেছেন মহর্ষি বাস্ত্যায়ন৷ কিন্তু বহু মানুষেরই জানা নেই যে মহর্ষি বাস্ত্যায়ন আজীবন ব্রহ্মচর্য ধর্ম পালন করেছেন, আদতে তিনি এক ব্রহ্মচারী৷ তবুও তাঁর যৌনতা সম্পর্কে ধারণা ছিল প্রগাঢ়৷ এই কলাকে তিনি বেশ কিছু নতুন মুদ্রায় পেশ করেছেন৷ রচনার বহু বছর পরেও কামসূত্র আজও সমান রূপে প্রাসঙ্গিক৷ এই বিষয়েই আজ বিস্তারিত আলোচনা করা যাক৷ ঋষি বাস্ত্যায়ন বেনারসের এক অত্যন্ত পরিচিত সাধু ছিলেন৷ বেদে অগাধ জ্ঞান ছিল তাঁর। তবে অনেকে এও বলেন দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে তিনি পাটনাবাসী ছিলেন৷

মহর্ষি বাস্ত্যায়ান প্রথমবার বৈজ্ঞানিক ভাবে বলেছিলেন আকর্ষণের পিছনে আসলে সত্যিকারের বিজ্ঞান কী? তিনি মানতেন যে জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিটি মানুষই যেমন কথা বলে থাকেন, তেমনই যৌন জীবনের নানান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কখনো উপেক্ষা করতে নেই অর্থাৎ যৌনতা নিয়ে কখনোই উদাসহীন হতে নেই৷ যদিও তিনি কামসূত্র লিখেছেন কিন্তু তিনি কখনোই কামুক ছিলেন না৷

প্রচলিত আছে যে বাস্ত্যায়ন কামসূত্র লিখেছিলেন বেশ্যালয়ে (House of sex workers or Prostitute’s House) গিয়ে৷ সেখানে চোখে দেখা বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের উপরে আলোকপাত করে তিনি লেখনি ধরেছিলেন৷ প্রখ্যাত লেখিকা বেন্ডি ডোনিগর বাস্ত্যায়নের বিষয়ে লিখেছিলেন “রিডিমিং দ্য কামসূত্র” বইয়ে, তিনি জানিয়েছেন কামসূত্র বইটি জীবন বাঁচার শিল্প হিসাবে ধরতে হবে, তবেই আসল বিষয়টি বুঝতে পারা যাবে৷

ভারতীয় ইতিহাস অধ্যয়ন করে বাস্ত্যায়ন অনুভব করেছিলেন যৌনতা নিয়ে মৌন থাকা একেবারেই উচিৎ নয়, বরং যৌনতা বিষয়টিতে লজ্জা না পেয়ে সবারই সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা উচিৎ৷ তিনি সর্বদা চেষ্টা করতেন যাতে এই বিষয়ে সাধারণ মানুষের কাছে উপযুক্ত তথ্য থাকে৷ তাই সারা পৃথিবীজুড়ে সমস্ত মানুষই যৌন দিশা পেতে সবার কাছে এই বইয়ের জন্য আবেদন করে থাকেন৷ হাজার হাজার বছর পরেও সমান ভবে প্রাসঙ্গিক এই বইটি৷

বাস্ত্যায়ন একজন মহান দার্শনিক ছিলেন৷ তিনি ন্যায়সূত্র নামক বই লিখেছেন৷ এই বইয়ের বিষয়বস্তু হল জন্ম ও জীবন সম্পর্কিত৷ মোক্ষলাভের পথ দেখানো রয়েছে যেখানে, যা বারেবারে প্রমাণ করে বাস্ত্যায়ন কি পরিমাণ বুদ্ধিসম্পন্ন ছিলেন৷ যদিও এই বই নিয়ে বিশেষ চর্চা হয়নি কখনও৷