প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও চাকরি না পেয়ে অবসাদে আত্মঘাতী যুবক

9
প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও চাকরি না পেয়ে অবসাদে আত্মঘাতী যুবক

বেকারত্বের সমস্যা এই রাজ্যের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। বিশেষত শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বরাবর এই রাজ্যের মুখ ডুবেছে। তবে এবার যে ঘটনাটি ঘটলো তার জেরে কার্যত রাজ্যের বেকারত্বের সমস্যা নিয়ে প্রশ্নের আঙ্গুল আরো একবার উঠলো সরকারের দিকে। উচ্চ শিক্ষিত এবং প্রশিক্ষণ থাকা সত্ত্বেও চাকরি না পেয়ে আত্মঘাতী হলেন এক যুবক।

ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের বড়োঞা থানার বড়া গ্রামে। এই গ্রামের ছেলে বাবুর বয়স মাত্র 24 বছর। হতদরিদ্র দিনমজুর পরিবারের ছেলেটি ছোটবেলা থেকেই বেশ মেধাবী ছিল। পড়াশোনা করে সে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতো। মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফল করার পর ইংরেজিতে অনার্স নিয়ে পড়াশোনা করেছিল সে। এরপর প্রাথমিক শিক্ষক হওয়ার জন্য d.el.ed ডিগ্রিও নিয়েছেন। তবে সবকিছুর পরেও মানসিক অবসাদ থেকে আত্মঘাতী হল বাবু।

চাকরির পরীক্ষার জন্য বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই পরিশ্রম করছিলেন তিনি। কিছুদিন আগেই পিএসসি ক্লার্কশিপ পরীক্ষায় ছয় হাজারের মধ্যে তার নাম উঠেছিল। আশায় বুক বেঁধে সে টাইপিং স্কুলে ভর্তি হয় পরবর্তী ধাপের জন্য। তবে সেই ফলাফল বাতিল হওয়াতেই হয়ে গেল গন্ডগোল। পরে যে রেজাল্ট বের করা হয় সেখানে দেখা যায় 18000 এর পেছনে চলে গিয়েছে তার রাঙ্কিং। এতেই মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করে সে।

শেষমেষ বিছানার চাদর গায়ে জড়িয়ে আত্মঘাতী হয় বাবু। তার সঙ্গে শেষ হয়ে যায় একটা স্বপ্ন। যে স্বপ্ন একেবারেই ছোট থেকে মনে লালন করে এসেছে সে। কলকাতায় বেশ কিছুদিন চাকরি চেষ্টা করে অবশেষে রাজমিস্ত্রি জোগাড়ে হিসেবে পরিশ্রম করতো বাবু। পিএসসি তালিকায় নাম বের হতে মাইনে না নিয়েই সে চলে আসে টাইপিং শেখার জন্য। সেই স্বপ্ন ভেঙে যাওয়াতে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেনি বাবু। যাওয়ার আগে সুইসাইড নোটে সে লিখে গিয়েছে, আমাদের সমাজ ও রাজ্য খুবই খারাপ ‍!