গণতন্ত্রকামীদের জঙ্গি বলে জেলে ঢোকানো হচ্ছে! ব্যর্থতা ঢাকতে তৎপর জিংপিং প্রশাসন

8
গণতন্ত্রকামীদের জঙ্গি বলে জেলে ঢোকানো হচ্ছে! ব্যর্থতা ঢাকতে তৎপর জিংপিং প্রশাসন

দেশের জনগণের উপরে চীনা কমিউনিস্ট যেভাবে শাসন চালাচ্ছে তাতে নাজেহাল হয়ে পড়েছে জনগণ, কিন্তু এই ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমে কোনরকমের খবরা খবর জানানো হচ্ছে না। জিংপিং প্রশাসন চায় যে তাদের এই ব্যর্থতার কথা যেন গোটা বিশ্বের থেকে লুকিয়ে তারা রাখতে পারে। কমিউনিস্ট দেশটি এবার গণতন্ত্রকামীদের জঙ্গি বলে জেলে পুরে দিচ্ছেন। এরকম শাসন থেকে ছাড়া পাচ্ছেন না স্কুল কলেজের ছাত্ররাও। ১ জুলাই চীনের কাছে যখন হংকং হস্তান্তরের বর্ষপূর্তি পালিত হচ্ছিল সেই সময় ৫0 বছরের এক ব্যক্তি একজন পুলিশকর্মীকে ছুরি মেরে, পরে নিজেও আত্মহত্যা করে। পুলিশ দাবি করেছে যে, এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ একটি জঙ্গি হামলা।

অন্যদিকে দেখা গেছে যে, সাধারন জনগন এক জায়গায় জড়ো হয়ে ওই আত্মহত্যা করেছে যে হামলাকারী তাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন ফুল দিয়ে। এই ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হংকংয়ের চীনপন্থী প্রশাসককে ক্যারিয়ার। ৬ জন স্কুলপড়ুয়া সহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ষড়যন্ত্র করার। অভিযুক্ত এই ৯ জনই হলেন রিটার্নিং ভালিয়ান্ট নামে একটি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীর সদস্য। পুলিশ অভিযোগ করেছে যে সরকারি অফিসের সামনে এবং আদালতে পরিকল্পনা করে এই ৯ জন বোমার হামলা চালিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে গণতন্ত্রকামীদের শাস্তি দেওয়ার জন্যই এই রকম ভাবে মিথ্যা মামলা চীনা পুলিশ করছে। মামলাতে জড়াচ্ছে স্কুলছাত্রদেরও। ১৯৯৭ সালে যখন ব্রিটেন চীনের হাতে হংকংকে হস্তান্তরিত করে সেইসময় নিজস্ব একটি স্বাধীনতার সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য এবং চরিত্রকে রক্ষার জন্য রাজি হয়েছিল বেজিং, কিন্তু এই রকম শর্ত ভেঙে দখলদারি চেষ্টা চালানো হচ্ছে যার জন্য কিছুদিন ধরেই বিভিন্ন জায়গায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

খবর সূত্রে জানা গিয়েছিল , ২০১৯ সালে যখন হংকং থেকে কয়েকজন সন্দেহভাজন অপরাধীকে চীনে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বিল নিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল লামকে এবং তার পরে অবশেষে এই বিল বাতিল করতে হয় তাকে।

এরপরেই হংকংয়ের জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত আইন পাশ হয় এবং সেখানে নয়া আইনে বলা হয় যে, সরকারের বিরোধিতা জাতীয় সুরক্ষা বিপন্ন করতে বিদেশিদের সঙ্গে যদি জোট বাঁধার মতো অপরাধ করা হলে, সেটার জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমানে হংকং এর বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক আন্দোলন কারীদের এটাই অভিযোগ যে, “ওই আইন আসলে তাদের দমন করার জন্যই ব্যবহার করা হচ্ছে” ।