মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে! কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের

24
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে! কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের

তৃণমূলের বড় থেকে ছোট নেতারা দাবি করছেন, এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা – খুব শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রী পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী পদে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরই দেখা মিলবে। এতসব জল্পনা কল্পনার মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে বলে আগুনে একটু ঘি ছড়িয়ে দিলেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা দলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি দাবি করেছেন, মমতা কিছুতেই তাঁর জায়গা ছাড়ছেন না, আর তাতেই দমবন্ধ হয়ে আসছে ভাইপো অভিষেকের। আর সেই কারণেই তো এত কান্ড!

গত কয়েক দিনে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ থেকে শুরু করে দলের সাংসদ অপরূপা পোদ্দার সহ অনেকে প্রধানমন্ত্রী পদে মমতা এবং বাংলার মুখ্যমন্ত্রী পদে অভিষেককে নিয়ে নিজের নিজের মতো করে বারংবার ট্যুইট করেছেন।নিয়মমাফিক বুধবার ইকোপার্কে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিয়ে এ প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, “গোটা বিষয়টিই তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জায়গা ছাড়ছেন না। ২০১৯ থেকে দিদি প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে ব্যানার লাগিয়ে হাওয়া গরম করা হচ্ছে। ব্রিগেডের মাঠে সভা করে আওয়াজ তোলা হয়েছিল দিদিকে দিল্লি পাঠানোর। কিন্তু দিদি ৩৪ থেকে ২২-এ নেমে গেলেন। ১২টি আসন গায়েব হয়ে গেল। গত জানুয়ারির নির্বাচনেও হাওয়া গরম করা হল বিস্তর। কিন্তু মানুষ তাঁকে হারিয়ে দিলেন।”

তিনি আরও বলেছেন, “ওঁর বোঝা উচিত যে পার্টির লোকেরা আর তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী পদে দেখতে চাইছেন না। কিন্তু তিনি ফের মুখ্যমন্ত্রী হলেন। কোনো পরিস্থিতিতেই জায়গা ছাড়তে চাইছেন না বলে পার্টির লোকেদের এবং ভাইপোবাবাজির দম একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড়। কিন্তু গদি থেকে যত তাড়াতাড়ি তুলে দেওয়া যায় ততই মঙ্গল। তাই ২০২৪-এ বিছানাপত্র গুটিয়ে তাঁকে দিল্লি পাঠানোর অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরানোর জন্যই এই মুভমেন্টের আয়োজন।”

সম্প্রতি তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের এক সৈনিক হিসেবে বলতে পারি, ২০৩৬ সাল পর্যন্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন মমতাদি। আর ২০৩৬ সালে অভিষেক যখন মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ করবেন তখন দিদি অভিভাবকের মত সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।” তবে অপরূপা পোদ্দার মঙ্গলবার আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছেন। তাঁর কথায়, “২০৩৬ নয়, বরং ২০২৪-এই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। আর বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন অভিষেক।”

প্রসঙ্গত, তৃণমূলের অন্দরে অভিষেকপন্থী হিসেবে পরিচিত কুণাল এবং অপরূপা – দু’জনেই। মমতা ছাড়া কাউকেই তাঁরা আবার নেতা হিসেবে মানতে পারেন না। আর ঠিক এই কারণেই কয়েক মাস আগেই শ্রীরামপুর সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তীব্র আক্রমণ করেছিলেন দু’জনে।