একুশের বিধানসভায় বামের সঙ্গে জোট করে লড়বে কংগ্রেস, মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন অধীররঞ্জন চৌধুরী

13
একুশের বিধানসভায় বামের সঙ্গে জোট করে লড়বে কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন অধীররঞ্জন চৌধুরী

আসন সমঝোতা নয়, একুশের বিধানসভা বামেদের সঙ্গে জোট করে রাজ্য রাজনীতিতে ফের ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে কংগ্রেস। সেই লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করে ময়দানে নামার বিষয়ে দলের রাজ্য নেতারা প্রায় সকলেই একমত বলে জানা গিয়েছে। বিধানভবন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে যে নামটি উঠে এসেছে, সেটি হল অধীররঞ্জন চৌধুরী। পুজো মিটলেই বামদের সঙ্গে জোটের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। আর তখনই আনুষ্ঠানিকভাবে অধীরকে ‘ভাবী মুখ্য়মন্ত্রী’ ঘোষণা করার প্রস্তাব দেওয়া হবে।

মাত্র পাঁচ বছরের আমূল বদলে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ। ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটে বামেদের সঙ্গে জোট করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে নির্বাচনী লড়াই-এ নেমেছিল কংগ্রেস। কিন্তু সেই জোট সফল হওয়া তো দূর অস্থ, উল্টে এ রাজ্যে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে উত্থান ঘটে বিজেপি-এর। এখন পরিস্থিতি এমনই যে, একুশের ভোটে গেরুয়াশিবিরকেই তৃণমূলকে প্রধান প্রতিপক্ষ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ, এমনকী সাধারণ ভোটাররাও। তাহলে কি এবার লড়াই হবে দ্বিমুখী? আগে থেকেই হার স্বীকার করে নিতে রাজি নন কংগ্রেস নেতারা। বরং, বামেদের পূর্ণ সহযোগিতা পেলে লড়াই ত্রিমুখী হতে চলেছে বলে মত তাঁদের।

গত বিধানসভা ভোটের ফলের নিরিখে এবার কমপক্ষে ১৪০টি আসনে প্রার্থী দিতে চাইছে প্রদেশ কংগ্রেস। দলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক ঋজু ঘোষালের সাফ কথা, ‘মনে রাখতে হবে, বামেদের এখন এমন কোনও মুখ নেই, যাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা নরেন্দ্র মোদীর বিকল্প মুখ হিসেবে তুলে ধরা যায়। কংগ্রেসের রয়েছে—অধীররঞ্জন চৌধুরী। লোকসভায় তিনি প্রধান বিরোধী পক্ষের নেতা। গোটা দেশ তাঁকে চেনে। রাজ্যেও তৃণমূল-বিরোধী পরিসরে তিনি প্রথম সারির নেতা। অর্থাত্‍ বাম-কংগ্রেস জোট হলে সেই জোটের তরফে মমতার বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প হতে পারেন একমাত্র অধীর চৌধুরীই। সে ক্ষেত্রে কংগ্রেস হবে জোটের বড় শরিক এবং তারা ১৫০-১৬০ আসনে লড়বে।’

বিধানভবন সূত্রে খবর, ২০১৬ সালের ভোটে বামেদের সঙ্গে শুধুমাত্র ‘আসন সমঝোতা’ হয়েছিল কংগ্রেসে। প্রচার পর্বে সচেতনভাবে ‘জোট’ শব্দটি এড়িয়ে গিয়েছিলেন বিমান বসু, মহম্মদ সেলিমরা। এমনকী, ফরওয়ার্ড ব্লক, সিপিআই, আরএসপি-এর মতো বাম শরিকটা সমঝোতা মানতে না চাওয়ায় ‘বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই’ হয়েছিল বেশ কয়েকটি আসনে। ফলে ভোট ভাগাভাগিও আটকানো যায়নি। কিন্তু এবার যদি জোট হয়, তাহলে কংগ্রেসের দর কষাকষির সুযোগে আগের বারের থেকে অনেক বেশি। উল্লেখ্য, লোকসভা ভোটে কিন্তু এ রাজ্যে কিন্তু দুটি আসনে জিতেছেন কংগ্রেস প্রার্থীরা। চল্লিশটির মধ্যে ৩৯টি লড়েও সুবিধা করতে পারেনি বামেরা। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের অন্দরে বেশি আসনে লড়া ও অধীর চৌধুরীকে ‘মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী’ করার দাবি জোরালোভাবেই উঠেছে। যদিও সরকারিভাবে এখনও পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।