সীমান্তে সংঘাতের জেরে উভয় রাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তার প্রভাব পড়ছে

6
সীমান্তে সংঘাতের জেরে উভয় রাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তার প্রভাব পড়ছে

লাদাখে সীমান্ত উত্তেজনা অব্যাহত। সম্প্রতি, সীমান্ত সংঘাত সম্পর্কে আলোচনা করতে রাশিয়ার মস্কো শহরে বৈঠকে বসেছিলেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং চীনের বিদেশ মন্ত্রী ওয়াং ই। কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর, প্রায় আড়াই ঘণ্টা বৈঠকের মাধ্যমে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র চীনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সীমান্তে ভারত-চীন সংঘাতের পরিবেশ থাকলে, উভয় রাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তার প্রভাব পড়বেই।

লাদাখ সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় চীন কেন এত সৈন্য মোতায়েন করছে, সে সম্পর্কেও চীনা বিদেশমন্ত্রকের কাছে প্রশ্ন তোলে ভারত। তবে, ভারতের এই প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেনি চীন। পাশাপাশি, বৈঠকের পর চীন বিবৃতিতে জানিয়েছে সীমান্ত সংঘাতের উপর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নির্ভর করে না। তবে উভয় রাষ্ট্রের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্ররা মনে করেন, উভয়ের মধ্যে শান্তি স্থাপিত হওয়া প্রয়োজন।

এখানে বৈঠকে এস জয়শঙ্কর জানান, সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে উভয় প্রতিবেশী রাষ্ট্রেরই সদিচ্ছা থাকা জরুরি। পাশাপাশি, ভারতের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় সীমান্তে শান্তির পরিস্থিতি না ফিরে এলে, উভয় রাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে তার কুপ্রভাব পড়বেই। বৈঠকের পর, ভারতের তরফ থেকে একটি সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে উভয় রাষ্ট্রেরই উচিত আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করা।

পাশাপাশি, ভারতের তরফ থেকে কড়া সমালোচনা করে জানানো হয়েছে, ১৯৯৩ এবং ১৯৯৬ সালের চুক্তি লংঘন করে সীমান্তে বিপুল পরিমাণ সেনা মোতায়েন করেছে চীন। যার কারণেই সীমান্ত উত্তেজনা এত বেড়েছে। তবে সীমান্ত সংঘাত সৃষ্টির পুরো দায়ভার ভারতের উপরেই চাপাতে চেয়েছে চীন। চীনের দাবি, ভারত সীমান্তে উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে, গোলাগুলি চালাচ্ছে। তাই আজ এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে, ভবিষ্যতে সীমান্ত সমস্যা নিরসনের অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে উভয় রাষ্ট্রই।