তিন দিনের বৃষ্টিতে ভাসছে চীন! জলের তলায় শপিং মল, মেট্রো ট্রেন, বিভিন্ন কার্যালয়

31
তিন দিনের বৃষ্টিতে ভাসছে চীন! জলের তলায় শপিং মল, মেট্রো ট্রেন, বিভিন্ন কার্যালয়

প্রকৃতি যখন ভয়ানক রূপ ধারণ করে তখন বড়ো বড়ো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারও দুর্যোগের সামনে ছোটো মনে হয়। আর এমনই পরিস্থিতি উৎপন্ন হয়েছে মধ্যে চীনের হেনান প্রান্তে। মুষলধারে বৃষ্টির কারণে উক্ত এলাকায় আসা বন্যা বিনাশকারী রূপ ধারণ করেছে। আচমকা বন্যা আসার কারণে এলাকার সড়ক জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। শপিং মল, মেট্রো ট্রেন, বিভিন্ন কার্যালয় একেবারে জলের তলায় পৌঁছেছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম বলছে, হেনান প্রদেশের রাজধানী ঝেংঝু শহরে এক বছরে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, তা হয়েছে মাত্র তিন দিনে। আবহাওয়ার খবরে আগামী তিন দিন ধরে আরো বৃষ্টিপাত হবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। স্থানীয় লোকেরা বলেছেন, তারা জীবনে কখনো এমন বৃষ্টি দেখেননি। কর্তৃপক্ষ বলছে, এরকম বন্যা অন্তত বিরল।

সকলেই জানি যে চীন টেকনোলজির দিক থেকে অনেকটাই উন্নত। প্রাকৃতিক বিপর্যয় আটকানোর জন্য চীনের কাছে মূল্যবান বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামের পাশাপাশি রয়েছে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত টিম। তবে বন্যার দরুন চীনে যে প্রলয় নেমে এসেছে তা প্রতিরোধ করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে জিনপিং সরকার।

বন্যার কবলে ফেঁসে যাওয়া লোকজন এখন ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থা শেয়ার করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় চীনের এমন কিছু ভয়ানক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মনকে ব্যথিত করছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভিডিওতে চীনের মেট্রো স্টেশনের মধ্যে জলের প্লাবন লক্ষ করা যাচ্ছে। আরো এক ভিডিওতে সাবওয়েতে ফেঁসে থাকা লোকজনের ভিডিও দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকারীরা ট্রেনগুলোর জানলা ভেঙে এবং ছাদ কেটে শত শত যাত্রীকে বের করে আনছেন।

শুধু এই নয়, মাটির ওপরে রাস্তাগুলো নদীর চেহারা নিয়েছে। এক ভিডিওতে বেশকিছু চার চাকা গাড়িকে বন্যার জলে ভাসতে দেখা যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে শিশুদের প্লাস্টিকের গামলা ভাসিয়ে উদ্ধার করার এই দৃশ্য দেখানো হয়েছে। আরেক স্থানে মলের মধ্যে ফেঁসে থাকা লোকজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে মধ্যে চীনের পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক।

প্রদেশের ১২টিরও বেশি শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং অন্তত ২ লক্ষ লোককে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে হয়েছে। উদ্ধার কাজে সেনাবাহিনী নামানো হয়েছে। পুরো প্রদেশ জুড়ে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং তার অধিকাংশই ছিল ঝেংঝু শহরে।