ব্রিটেনের জাতীয় খাবারের তালিকায় নাম উঠলো চিকেন টিক্কা মশলা

10
ব্রিটেনের জাতীয় খাবারের তালিকায় নাম উঠলো চিকেন টিক্কা মশলা

চিকেন টিক্কার নাম শুনলেই জিভে কেমন জল চলে আসে বলুনতো! আর শীতের এই ঠান্ডা ঠান্ডা মরশুমে চিকেন টিক্কা কে না খেতে পছন্দ করে। ভারতীয় রেস্তোরাঁয় কয়েক দশক ধরে এই খাবারের জনপ্রিয়তা নজরকাড়া। তবে জানেন কী, ব্রিটেনের ভারতীয় রেস্তোরাঁতেও এই পদটি দারুণ জনপ্রিয়। শুধু তাই নয়, এই চিকেন টিক্কা মশলা ব্রিটেনের জাতীয় খাবারও? তবে টিক্কার উৎপত্তি নিয়ে নানা তর্কবিতর্ক রয়েছে। তবে উৎপত্তি নিয়ে যতই তর্কবিতর্ক থাকুক না কেন স্বাদে গন্ধে চিকেন টিক্কা মশলার কোনো তুলনাই হয় না।

অনেকেই মনে করেন পাকিস্থানের শেফ আলি আহমেদ আসলাম ক্লাসিক চিকেন টিক্কার সঙ্গে নিজস্ব সসের মিশ্রণে বানিয়ে ফেলেন এই টিক্কা। সেই গুপ্ত সসের সঙ্গে তিনি মিশিয়ে দেন টমেটোর গ্রেভি। সেখান থেকেই এই টিক্কার উৎপত্তি।

আবার কয়েকশো বছর আগে যখন তন্দুর বানানো হয়, তখন থেকেই গোটা মুরগির রোস্টের চল শুরু হয়। মুরগির হাড় গলায় বিঁধে যেতে পারে এই ভয়ে বাবর মাংস থেকে দূরে থাকতে চাইতেন। পরবর্তীতে তিনি তাঁর বার্বুচিদের হুকুম করেন তাঁর জন্য হাড় ছাড়া মাংস রান্না করতে সেখান থেকেই টিক্কার জন্ম।

অনেকে বলেন উনিশ শতকে এক বাংলাদেশি বার্বুচির হাত ধরেই টিঙ্কার প্রবেশ ব্রিটেনে। টমেটোর গ্রেভি, মশলা আর টকদই এর মিশ্রণে এই রান্না করা মাংস আলোড়ন ফেলেছিল ব্রিটেনে। ২০০১ সালে, ব্রিটিশ মন্ত্রী রবিন কুক এই খাবারকে সোশ্যাল মার্কেটের ফাউন্ডেশনের সভায় সে দেশের জাতীয় খাবারের আখ্যা দেন।

অনেকে বলেন, পঞ্জাবি বাটার চিকেন মশলাই পরবর্তীতে চিকেন টিক্কা মশালা হয়। স্বাধীনতার পর পঞ্জাব থেকে যখন লোকজন ইউরোপে পাড়ি দেন তখন এই রেসিপিও তারা সঙ্গে করে নিয়ে যান।

১৯৬০ সালে সেখানকার এক রেস্তোরাঁয় এক সাহেব এই চিকেন টিক্কা খেতে গিয়ে দেখেন ডিশটি বেশ শুকনো। তারপর তিনি এক বাংলাদেশের শেফকে অনুরোধ করেন এই চিকেনটায় যদি গ্রেভি যোগ করা যায়। এরপর ওই বাংলাদেশের বার্বুচী দই, টমেটো, মশলা, সস সহযোগে গ্রেভি বানিয়ে টিক্কা মশলা বানিয়ে সাহেবকে খাওয়ান। এতে তিনি খুবই খুশি হয়েছিলেন। আর তাই এখান থেকেই অনেকে আবার দাবি করেন, চিকেন টিক্কা মশালা নাকি প্রথম বার্মিংহ্যামেই তৈরি হয়েছিল।

তবে রবিন কুক তাঁর সেই বক্তব্যে উল্লেখ করেছিলেন, ‘চিকেন টিক্কামশালা শুধুই যে ব্রিটেনের জাতীয় খাবার তাই নয়। সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবারও। ব্রিটেন যে বাইরের কোনও খাবারকেও নিজের মত করে আপন করে নিতে পারে এবং ভালবাসতে পারে এটা তারই উদাহরণ। তবে চিকেন টিক্কা কিন্তু ভারতীয় খাবার’। তবে ব্রিটিশরা তাঁদের চেনা মাংসের স্বাদে পরিবর্তন আনর জন্য গ্রেভিতে মেশানো চিকেন চেয়েছিলেন। সেখান থেকেই ভারতীয় বাটার চিকেন স্বাদে অদল বদল হয়ে বাংলাদেশের শেফের হাত ধরে চিকেন টিক্কা হয়।