গরীব কল্যান রোজগার যোজনার আওতায় পুরুলিয়া জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট

5
গরীব কল্যান রোজগার যোজনার আওতায় পুরুলিয়া জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট

কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে চালু করা গরিব কল্যান রোজগার যোজনায় যাতে রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকরা অংশগ্রহণ করতে পারেন, রোজগার পেতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যে কলকাতা হাইকোর্টের তরফ থেকে এক ঐতিহাসিক’ রায় প্রদান করা হলো। এই গরীব কল্যান রোজগার যোজনার আওতায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলা গুলিকে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি রাধাকৃষ্ণাণ। পাশাপাশি, পুরুলিয়া জেলা শাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অবিলম্বে যেন পুরুলিয়া জেলার নাম এই যোজনার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, করোনার জেরে লকডাউন চলাকালীন দেশের লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। কাজ হারিয়ে বাধ্য হয়ে ভিন রাজ্য থেকে নিজ রাজ্যে ফিরে আসেন তারা। নিজ রাজ্যে যাতে কাজ পেতে অসুবিধা না হয় সেই জন্য, প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি গত ২০শে জুন গরিব কল্যাণ রোজগার যোজনার উদ্বোধন করেন। কেন্দ্রের তরফ থেকে প্রকাশিত তালিকায় বাংলার বেশ কয়েকটি জেলার নাম বাদ পড়েছিল। যার মধ্যে ছিল পুরুলিয়া জেলা।

কেন্দ্রের তালিকা থেকে পুরুলিয়ার নাম বাদ যাওয়ায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন পুরুলিয়ার বাগমুন্ডি এলাকার কংগ্রেস বিধায়ক নেপাল মাহাতো। কেন্দ্রীয় প্রকল্প অনুসারে, ২৫ হাজারের বেশি পরিযায়ী শ্রমিক থাকলেই সেখানে এই রোজগার যোজনা চালু করা যাবে। নেপাল মাহাতোর দাবি ছিল, পুরুলিয়া জেলা এই প্রকল্প পাওয়ার যোগ্য হলেও কেন্দ্রের তালিকা থেকে পুরুলিয়া জেলাকে বাদ রাখা হয়েছে। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি পরিযায়ী শ্রমিকদের সমর্থনে রায় প্রদান করে কলকাতা হাইকোর্ট।

কেন্দ্রের ঘোষিত প্রকল্প অনুযায়ী, গরিব কল্যাণ রোজগার যোজনায় ১২৫ দিনের জন্য কাজ পাবেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে কেন্দ্রের খরচ হবে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। মূলত লকডাউনের মধ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে কেন্দ্রের তরফ থেকে এই প্রকল্প শুরু করা হয়। তবে পুরুলিয়ায় মোট ৩৯ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক থাকা সত্বেও, কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে বাদ পড়ে যায় পুরুলিয়া। ফলে পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রাপ্য আদায় করতে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন নেপাল মাহাতো।