আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগেকার কলকাতা নিয়ে আলোচনা করা হল

11
আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগেকার কলকাতা নিয়ে আলোচনা করা হল

আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগে কলকাতা সহ তার আশেপাশে জীবনযাত্রা এমন ছিল না। অনেক সময়ই আমাদের ঠাকুমা অথবা দিদিমা দের বলতে শোনা যায় যে, আমরা তো সবকিছু এমনি চিবিয়ে খেয়ে নিতাম। আমাদের ভাই এত অসুখ-বিসুখ ছিল না বাবু। কথাটা কিন্তু একেবারেই খাঁটি কথা। সত্যি তখনকার দিনের মানুষেরা এতটাই খাঁটি জিনিসপত্র খাওয়া-দাওয়া করতেন, ফলে এখনকার মানুষের মতো ঘন ঘন ডাক্তারের কাছে যেতে হতো না তাদের।

তখনকার জীবনযাত্রার কথা শুনলে এখন যেন মনে হয় কল্পকথা। তখন খুচরো পয়সা বলতে এক টাকা দুই টাকা পাঁচ টাকা দশ টাকা বোঝানোর হতো না, তখনকার সময়ে খুচরো পয়সা বলতে বোঝানো হতো কড়ি কে। হ্যাঁ এই সেই কড়ী, যা দিয়ে তখনকার সময়ে মানুষ জিনিসপত্র কেনা বেচা করত।

তখনকার মানুষের জীবনযাত্রা ছিল খুবই সরল। তখন মানুষেরা গামছা গায়ে দিয়ে পাশের পুকুরে চান করতে চলে যেতেন, নিদেনপক্ষে বাড়িতে থাকা চৌবাচ্চায় চান করতেন। এখনকার মতো তখনকার মানুষের অত জামাকাপড়ে শখ ছিল না। তখনকার মানুষের মনটা ছিল খুবই সাদামাটা। তাই বুঝি বাহ্যিক আরম্ভর এর হয়তো প্রয়োজন ছিল না তখন। তখনকার মানুষ ঘরে থাকা গরুর দুধ খেয়ে বড় হতো। এছাড়া বড় বড় বাড়িতে থাকতো ঢেঁকি। সেই ঢেঁকিতে চাল ভেঙে বাড়িতে ভাত করে তারা খাওয়া-দাওয়া করছেন।

এছাড়া তখনকার সময়ে দিদিমাদের মাজন অথবা ব্রাশের কোন ধারণা ছিল না। তারা কর্পূর দেওয়া গুরো মাজন দিয়ে দাঁত মাজেন। এতে দাঁত ফর্সা হতে ঠিকই, তবে মুখে থেকে যেত কর্পূর এর গন্ধ। তখন কলকাতা এবং কলকাতার আশে পাশের গ্রামে ছিল বাঘের ভয়। এখনকার মত এত উন্নত না হওয়ায় গ্রামের আশেপাশের জঙ্গল থেকে মাঝে মাঝেই হনুমান অথবা বাঁদরের উৎপাত করত গ্রামে। তখনকার কলকাতায় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল ছিল না। তার বদলে ছিল খোলা আকাশ এবং দিগন্ত মাঠ। বন্যপ্রাণীদের পাশাপাশি তখন ডাকাতেরও কিন্তু খুবই প্রাদুর্ভাব ছিল।

হাজার ১৯৮০ সালে যখন ইংরেজদের প্রথম বাণিজ্য জাহাজ কলকাতার বন্দরে এসে উপস্থিত হয়, তখনকার ইংরেজরা এ দেশের ভাষা জানতেন না। তবে তারা শুনিয়েছিলেন যে এদেশের শেঠ গোবিন্দ বসাক একটু হলেও ইংরেজি ভাষা জানতেন। ইংরেজরা তাই গোবিন্দ বসাকের কাছে লোক পাঠিয়ে একজন দ্বিভাষির সন্ধান করেন। কিন্তু ইংরেজদের কথা ঠিক মত না বুঝে জমিদার মশায় তাদের কাছে একজন ধোপা পাঠিয়ে দিলেন। তবে যে ধোপাটি কে পাঠানো হয়েছিল ইংরেজদের কাছে, তার নাম ছিল রতন। সে অনেকটা ইংরেজি বুঝত। তার কথাতেই খুবই সন্তুষ্ট হয়ে ইংরেজরা তাকে পুরস্কৃত করলেন। আজ অনেকের অনুমান, বর্ধমানের জোড়াসাঁকোর কাছে রতনের নামে একটি রাস্তা রয়েছে।