বিয়ের আসরে পৌঁছে দিতে জওয়ানের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করল BSF

10
বিয়ের আসরে পৌঁছে দিতে জওয়ানের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করল BSF

সেনাবাহিনীর আত্মত্যাগ দেশের সুরক্ষার জন্য; তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। পরিবার ভুলে দেশের মানুষের সুরক্ষায় নিজেদের সর্বদাই নিয়োজিত রাখেন তাঁরা। সেই এক বিএসএফ জওয়ানের বিয়ে কিন্তু বাড়ি যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধ সেধেছে দুরত্ব। সীমান্তে পাহারা দেওয়া মানেই রয়েছে প্রতি পদে বিপদের হাতছানি।

সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর কর্তৃপক্ষ সেই বাধা যাতে তাঁকে তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ মুহূর্তে বাধ সাধতে না পারে সেই ব্যবস্থাই করে দিল। বিএসএফ জওয়ান যাতে বিয়ে করার জন্য নির্বিঘ্নে বাড়ি পৌঁছে যেতে পারেন সেই কারণে ব্যবস্থা করে দেওয়া হল বিশেষ হেলিকপ্টার। ৩০ বছরের কনস্টেবল নারায়ণ বেহেরার কর্মস্থল জম্মু ও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) বরাবর। চারিদিকে শুধুই ধূ ধূ বরফ। আবার অত্যধিক তুষারপাতের ফলে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে সড়কপথ। যা অতিক্রম করে দ্রুত করে ওড়িশা অর্থাৎ যেখানে তাঁর বাড়ি সেখানে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

এদিকে আগামী ২ মে রয়েছে বিয়ে। এই নিয়েই চিন্তায় পড়েন নারায়ণ বেহেরার পরিবার। যেহেতু এলওসি পোস্টটি তুষারে আবদ্ধ হয়ে রয়েছে এবং কাশ্মীর উপত্যকার সঙ্গে সড়কের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা বর্তমানে বন্ধ ও দুর্গম তাই সেখানে মোতায়েন সেনাদের জন্য একটি সামরিক বিমান যাত্রা একমাত্র উপলব্ধ পরিবহনের উপায়।

কিন্তু জওয়ানের বাবা-মা সম্প্রতি তার ইউনিট কমান্ডারদের সাথে যোগাযোগ করে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে তাদের ছেলে বিয়ের জন্য দ্রুত যেতে সক্ষম হবে কিনা। এই কথা জানানোর পরেই জীবনের বিশেষ দিনে জওয়ান যাতে বাড়ি সুরক্ষিত ভাবে পৌঁছতে পারে তাঁর জন্যই বাড়ি পৌঁছে দিতে বিমান পাথায় বিএসএফ। ওই জওয়ানকে বিমানে তোলার জন্য বৃহস্পতিবার বিএসএফ একটি বিশেষ হেলিকপ্টার উড়েছিল যাতে সে তাঁর বিয়ের সময় ওড়িশায় প্রায় ২৫০০ কিলোমিটার দূরে বাড়ি ফিরে যেতে পারে।

এই বিষয়টি বিএসএফ-এর ইন্সপেক্টর জেনারেল (কাশ্মীর সীমান্ত) রাজা বাবু সিং-এর নজরে আসে। তিনি আদেশ দিয়েছিলেন যে শ্রীনগরে অবস্থানরত সেনা বাহিনীর একটি চিতা হেলিকপ্টার অবিলম্বে যেন বেহেরাকে এয়ারলিফট দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই বৃহস্পতিবার ভোরে হেলিকপ্টারটি বেহেরাকে তুলে নিয়ে শ্রীনগরে নিয়ে আসে। সেকাহ্ন থেকেই ওই বিএসএফ জওয়ান বর্তমানে ওড়িশার ঢেঙ্কানাল জেলার আদিপুর গ্রামে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন বিয়ে করার জন্য। ভারতীয় সেনার এই কাজ প্রকাশ্যে আসার পরেই অনেকেই এই ঘটনার প্রশংসা করেছেন।