শ্রাদ্ধঅনুষ্ঠানের আগে বাড়ি ফিরে এলেন গৃহকর্তা, আনন্দে আত্মহারা প্রিয়জনেরা

4
শ্রাদ্ধঅনুষ্ঠানের আগে বাড়ি ফিরে এলেন গৃহকর্তা, আনন্দে আত্মহারা প্রিয়জনেরা

কাগজে-কলমে তিনি মৃত। তার মৃত্যু সংবাদে দিশেহারা পরিবার। কিন্তু কি আর করা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে দেখানো সত্যিটাই মেনে নিয়েছিলেন পরিবারবর্গ। সেইমতো শ্রাদ্ধঅনুষ্ঠান, ক্রিয়া কর্মও সেরে ফেলেছিলেন তারা। সারা বাড়ি জুড়ে যেন শ্মশানের নিস্তব্ধতা বিরাজ করছিল। কিন্তু শোকগ্রস্ত বাড়িটিই মুহুর্তের মধ্যে যেন আনন্দ অনুষ্ঠানের বাড়িতে পরিণত হল। কারণ, গৃহকর্তা বাড়ি ফিরেছেন যে!

না শ্মশান থেকে নয়, বেহুলা-লক্ষিন্দরের মতো স্বর্গ থেকেও নয়। “মৃত” ব্যক্তি জীবিত হয়ে ফিরে এলেন হাসপাতাল থেকেই, হাসপাতালেরই অ্যাম্বুলেন্সে চড়ে। আজব এই ঘটনাটি ঘটেছে খড়দাতে। ঠিক কী ঘটেছিল? জানা গেল, গত ৩রা নভেম্বর খড়দার বাসিন্দা মোহিনীমোহন মুখোপাধ্যায় এবং বিরাটির বাসিন্দা শিবদাস বন্দ্যোপাধ্যায় একই দিনে বলরাম বসু সেবামন্দির কোভিড হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই একই দিনে রাতের বেলা দু’জনকেই বারাসতের কোভিড হাসপাতালে রেফার করা হয়।

পরে অবশ্য মোহিনীমোহন মুখোপাধ্যায়ের অবস্থা বেশি সংকটজনক বুঝে তাকেই শুধু বারাসতে স্থানান্তরিত করা হয়। আর তখনই ঘটে বিপত্তি। মোহিনীমোহনের সঙ্গেই শিবদাসের সকল নথি বারাসাত হাসপাতালে চলে যায়। পরে ১৩ই নভেম্বর ওই হাসপাতালেই মোহিনী মোহনের মৃত্যু হয়। এদিকে শিবদাসের পরিচয় প্রাপ্ত মোহিনী মোহনের মৃত্যুর খবর পৌঁছে যায় শিবদাসের বাড়িতে।

করোনাকালে মৃত রোগীকে শেষ দেখা দেখতে পারবেন না পরিবারবর্গ। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মুখের কথাটাই বিশ্বাস করতে হয়েছিল শিবদাসের পরিজনদের। সেই মতোই এতদিনে শিবদাসের শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে ফেলেন তারা। এদিকে ২০শে নভেম্বর শিবদাস হাসপাতাল থেকে মুক্তি পেয়ে নিজের বাড়িতে ফেরেন। তাকে দেখে স্বভাবতই আনন্দে আত্মহারা প্রিয়জনেরা। তবে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনিক দপ্তরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। তদন্তের স্বার্থে চার সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি, স্বাস্থ্য ভবনের তরফ থেকে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের কাছে ঘটনার রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে।