মরশুমের শুরুতেই ইলিশ নিয়ে হাসি ফুটছে ব্যবসায়ীদের মুখে

8
মরশুমের শুরুতেই ইলিশ নিয়ে হাসি ফুটছে ব্যবসায়ীদের মুখে

বাঙালি পাতে ইলিশ ভাপার সেই ঝাঁঝালো গন্ধ না পেলে ভুরিভোজের সেই আমেজটাই আসে না। কি ঠিক বলছি তো! মৎস্য রাণী ইলিশ ভাজার গন্ধ রান্না ঘর থেকে নাকে ভেসে আসলেই মনে পড়ে যায় বৃষ্টির দিনে গরম গরম খিচুড়ি আর ইলিশ মাছ ভাজার কথা। আর এবারের মরশুমের শুরুটাই তো হল দারুণ ভাবে। বর্ষার শুরুতেই আড়তে মৎস্য রানীর উপচে পড়ার বহর দেখে ব্যবসায়ীদের মুখে ফুটে উঠেছে একগাল হাসি।

বর্ষা প্রবেশের পর সপ্তাহের প্রথম দিনেই আড়তে উপচে পড়তে দেখা গেল রাশি রাশি ইলিশ মাছ। তাই এই দিন গড়িয়াহাট বাজারে ক্রেতাদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। বাজারে সব রকম সাইজের যেমন ৪০০-৫০০ গ্রাম থেকে শুরু করে ১ কেজি, ২ কেজির ইলিশ মাছেরও দেখা মিলেছে বাজারে। আর নতুন বছরে দুপুরের খাবার পাতে প্রথম ইলিশ পড়ার আনন্দও ছিল ক্রেতাদের চোখে মুখে স্পষ্ট। সব মিলিয়ে বর্ষার শুরুতেই কলকাতায় ইলিশের বাজার ছিল জমজমাট।

এদিন গড়িয়াহাট বাজারে রাশি রাশি ইলিশের গন্ধে ক্রেতাদের ভিড় দেখে এক মাছ ব্যবসায়ী বিকাশচন্দ্র দাস বলেন, “গতবছর সেভাবে ইলিশের পসার ছিল না। ক্রেতার সংখ্যা বেশি ছিল ঠিকই, তবে মাছের জোগান সেভাবে ছিল না। কিন্তু, এবার মনে হচ্ছে বেশ ভালোরকমই বাঙালির পাতে ইলিশের দেখা মিলবে। আর তার প্রমাণ প্রথম দিনেই আড়ত থেকে আসা মাছের পরিমাণ।” তবে অনেক মাছ ব্যবসায়ীর মতে, “এখনও সেভাবে আড়ত থেকে মাছ এসে পৌঁছোয়নি, যদিও এ বছর অনেক বেশি জোগানের সম্ভাবনা রয়েছে। আর মৎস্যচাষীরাও এ বছর ইলিশের পরিসংখ্যান নিয়ে খুশি।”

সোমবার গড়িয়াহাট বাজারে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ইলিশের দাম ছিল ৪০০ থেকে সাড়ে ৪০০ টাকা। খোকা ইলিশের পাশাপাশি বড় ইলিশও ছিল বটে, তবে তা সংখ্যায় কম। অন্যদিকে হাওড়া মাছের বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, “এখনও তো হাতে বেশ খানিকটা সময় রয়েছে। আর তাছাড়া প্রথমদিনের জোগান দেখেই বাকি মরশুম কেমন মাছের জোগান থাকবে তা কি আর বলা যায়? তবে আজ ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রামের বেশি ওজনের মাছ আসেনি। ওই মাছ ৬০০-৬৫০ টাকায় বিক্রি করতে পেরেছি। তবে হ্যাঁ আশা রাখা যায় যে আগামীদিনে ভালো মাছও আসবে আর ক্রেতাদের মুখে হাসিও ফুটবে।”

সূত্রের খবর, শুক্র ও শনিবার মিলিয়ে প্রায় ১১০ টন ইলিশ মাছ এসে পৌঁছেছে ডায়মন্ড হারবার নগেন্দ্রবাজার মৎস্য আড়তে। যদিও হাওড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা বাজারে মাছের আমদানি দেখে বলেছেন এই জোগান যথেষ্ট নয়। আরও প্রয়োজন।