স্বাস্থ্যসাথী খাতে এই মুহূর্তে প্রতিদিন প্রায় ছয় কোটি টাকা খরচ হচ্ছে রাজ্য সরকারের

9
স্বাস্থ্যসাথী খাতে এই মুহূর্তে প্রতিদিন প্রায় ছয় কোটি টাকা খরচ হচ্ছে রাজ্য সরকারের

আসন্ন একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট ব্যাংকের কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে গৃহীত সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য পরিকল্পনাটি হলো রাজ্যের প্রত্যেক বাসিন্দার জন্য স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের উন্মুক্তকরণ। রাজ্য সরকারের এই পরিকল্পনায় ব্যাপক সাড়া মিলেছে। বিশেষত দুয়ারে সরকার প্রকল্পের মধ্য থেকে এই স্বাস্থ্য সাথী পরিষেবা নিয়ে সর্বাপেক্ষা আগ্রহী রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষ। ফলে স্বভাবতই রাজ্যের উপর স্বাস্থ্যসাথী সংক্রান্ত পরিষেবা প্রদানের চাপ বাড়ছে।

এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের প্রতিটি পরিবারকে চিকিৎসা খাতে বছরে পাঁচ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসাথী খাতে চিকিৎসার জন্য রোগীদের বিল মেটাতে রাজ্য সরকারের এই মুহূর্তে প্রতিদিন প্রায় ছয় কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। অর্থাৎ এই পরিস্থিতি থাকলে আগামী এক বছরে রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে স্বাস্থ্যসাথী বাবদ অন্তত ২২০০ কোটি টাকা খরচের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এই বিপুল পরিমান খরচের বোঝা চেপেছে সরকারি কোষাগারের উপর। তাই চলতি অর্থবছরের বিধানসভা বাজেটে অতিরিক্ত আড়াই হাজার কোটি টাকা স্বাস্থ্যসাথীর খরচের খাতে বরাদ্দ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার রোগীকে স্বাস্থ্য সাথীর পরিষেবা দিচ্ছে রাজ্য সরকার। আগামী দিনে সংখ্যাটা আরো বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ স্বাস্থ্য সাথী ‌প্রকল্পের পঞ্চম পর্বে গ্রাহকের অন্তর্ভুক্তি এখনো বাকি।

এর আগে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পটি বীমার আওতায় ছিল। এই বীমার প্রিমিয়াম দিত রাজ্য সরকার। এখন এই খাতে সমস্ত খরচ দিচ্ছে রাজ্য সরকার। অপরপক্ষে এই প্রকল্পকে রাজ্যের সকল স্তরের বাসিন্দাদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়াতে এ পর্যন্ত অন্তত ২৫ শতাংশ মানুষের নাম নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী দিনে সংখ্যাটা আরও বাড়বে। তার সাথে রাজ্য সরকারের খরচও আশাতীতভাবে বাড়বে।