টিকা নেওয়া শুরু হলেই রাজ্যে আকাল পড়বে রক্তের! উদবিগ্ন স্বাস্থ্য দপ্তর

26
টিকা নেওয়া শুরু হলেই রাজ্যে আকাল পড়বে রক্তের! উদবিগ্ন স্বাস্থ্য দপ্তর

একদিকে যেমন 18 বছরের উর্ধ্বে প্রত্যেকটি মানুষ টিকাকরণ পাবে, তেমন অন্য দিকে পরের মাস থেকে আকাল পড়তে চলেছে রক্তের। এটি স্বস্তির ইঙ্গিত নাকি ভয় এর সেটা এখনো বুঝতে পারছে না মানুষ। প্রতিদিন যেমন আস্তে আস্তে তাপমাত্রার পারদ বেড়ে চলেছে, অদূর ভবিষ্যতে ভীষণভাবে রক্তের দরকার হবে মানুষের। কিন্তু এবার বহু সংখ্যক মানুষ যদি একসঙ্গে করণা টিকা নেন, তাহলে এই সংকট কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা ভাবলেই ভয় পেতে হয়।

টিকাকরণ বিষয়টি স্পষ্ট বলা আছে যে ভ্যাকসিন দেওয়ার পর অন্তত এক মাস কোন ভাবে রক্তদান করা চলবে না। অন্যদিকে এই সময় সীমা পেরিয়ে গেলে এসে যাচ্ছে দ্বিতীয় ডোজের সময়। তাই রাজ্যবাসীকে বাঁচানোর জন্য এই সময়টা জুড়ে অনেকেই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করতে চলেছেন।

আগামী দুই মাস লক্ষ লক্ষ থালাসেমিয়া রোগী এবং ব্লাড ক্যান্সারের রোগীদের সঠিক সময়ে রক্তদান দেবার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুত হতে হচ্ছে মানুষকে। পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে কলকাতাসহ জেলায় জেলায় প্রয়োজন অনুযায়ী রক্তের যোগান দিয়ে আসছে ব্লাড মেটস। করোনার প্রথম ধাক্কায় তারা 100 টি বেশি ক্যাম্প করেছিলেন। এবার তাদের ইচ্ছা, আরো বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাবার। কিন্তু এভাবে ও কি করোনাকে আটকানো যাবে? তার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছে না কেউ।

থ্যালাসেমিয়া নিয়ে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করার সমাজ কর্মীরাও প্রমাদ গুনছে। অদূর ভবিষ্যতে বিপদে যে কতখানি তা তারা খুব ভালোভাবেই জানেন। তাই তারা চেষ্টা করছেন টিকাকরণের আগেই রক্ত নিয়ে নেবার যতখানি সম্ভব। ব্ল্যাক হেডসের সক্রিয় সদস্য সুচন্দ্রা কর মহাপাত্র জানালেন, আমরা এখন ক্যাম্প করতে পারছিনা। ব্লাড ব্যাংক পরিস্থিতি বুঝে আগের মত রক্তদানে উৎসাহিত করছে না। এদিকে ২৮ দিন হতে না হতেই দ্বিতীয় টিকাকরণের সময় চলে আসছে। এই সময় যদি কম বয়সীরা উদ্যোগ নেন তাহলেই এই অবস্থা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

কলকাতা মেডিকেল কলেজের রক্তসঞ্চালন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান চিকিৎসক সমস্যার গভীরতা স্বীকার করে বলেন যে, রক্তদান শিবির এখনো পর্যন্ত হয়নি। আগেভাগে রক্ত মজুদ করা যাচ্ছে না। যথাসম্ভব আমাদের রক্তদান শিবিরের ব্যবস্থা করতে হবে। বর্তমান সংকটের সঙ্গে এই বিপদ কতখানি যুক্ত হবে তা বলা যাচ্ছে না। ভোট মিটে যাবার পর রক্তদান শিবিরের আয়োজন করতেই হবে।