ডোম পদে চাকরির জন্য আবেদন স্নাতক ইতিহাসে গোল্ড মেডেল প্রাপ্ত স্বর্ণালীর

72
ডোম পদে চাকরির জন্য আবেদন স্নাতক ইতিহাসে গোল্ড মেডেল প্রাপ্ত স্বর্ণালীর

অবশ্যই কোন কাজ ছোট বড় হয় না। এই কথাটি কিছুদিন আগে প্রমাণ করে দিলেন একজন মহিলা। কিছুদিন আগেই খবর পাওয়া গিয়েছিল, এন আর এস মেডিকেল কলেজে ডোম পদে চাকরির জন্য নেওয়া হবে বেশকিছু প্রার্থীকে। এই পদে চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং ইঞ্জিনিয়াররা। যেহেতু এই পদের জন্য অষ্টম শ্রেণী পাস এর যোগ্যতা নির্ধারিত করা হয়েছিল, তাই স্বাভাবিকভাবেই অনায়াসে উচ্চশিক্ষিতরা এই পদের জন্য আবেদন করতে পেরেছিলেন।

কিন্তু এইরকম একটি পদের জন্য হাজার হাজার উচ্চশিক্ষিত প্রাথীদের আবেদন দেখে রীতিমতো হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন সকলে। এনাদের মধ্যে একটি আবেদনকারী মহিলার কথা উঠে এসেছে সকলের সামনে। এই মহিলা স্নাতক ইতিহাসে গোল্ড মেডেল প্রাপ্ত। শিবপুরের বাসিন্দা স্বর্ণালী সামন্ত যিনি কিনা গোল্ড মেডেলিস্ট তিনি এই পদের জন্য আবেদন করাতে সকলে হতবাক হয়ে যান।

প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, খুব অল্প বয়সী শিবপুরের দেবব্রতর সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায় তার। তবে বিয়ের পরে পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। স্নাতক ইতিহাসে পড়াশোনা করে স্বর্ণপদক লাভ করেছিলেন তিনি। তবে হাজার চেষ্টা করলেও কোনো সরকারি চাকরি পাননি স্বর্ণালী। অবশেষে কার্যত বাধ্য হয়ে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রিসেপশনিস্ট এর কাজ করতেন তিনি।

স্বর্ণালীর স্বামী দেবব্রত উবের বাইক চালান। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার কোন ভাবে কেটে যাচ্ছিল কিন্তু বাধ সাধল মহামারী। ছোট্ট কন্যার খাওয়া-দাওয়ার বন্দোবস্ত করার জন্য ইতিমধ্যে হিমশিম খেতে হয়েছিল তাদের। ঠিক এই মূহুর্তে ডোম পদে চাকরির আবেদন করেছিলেন স্বর্ণালী, সঙ্গে সঙ্গে পেয়েছিলেন চাকরি।

স্বর্ণালী জানান, চাকরির বিজ্ঞাপন লেখা ছিল ল্যাবরেটরি এটেনডেন্ট। প্রথমে তিনি জানতেন না এটা কিসের বিজ্ঞপ্তি ছিল। পরে জানতে পেরে আর পিছিয়ে আসেননি তিনি। সরকারি চাকরি যে কতটা নিরাপদ হয়,তা সকলেই জানে। তাই কাজ পেয়ে হাতছাড়া করতে চায়নি স্বর্ণালী। চাকরির আবেদন করার পর রবিবার লিখিত পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি। এরপর শুধুমাত্র ফলাফলের অপেক্ষা। অবশ্যই স্বর্ণালী চান, চাকরিটা যেন তার হয়ে যায়। তাহলেই জীবন সুরক্ষিত হয়ে যাবে।