ভাইকে বালিশ চাপা দিয়ে খুন করেছে আরেক ভাই! জানুন তারপর

3
ভাইকে বালিশ চাপা দিয়ে খুন করেছে আরেক ভাই! জানুন তারপর

এক ভাই আরেক ভাইকে বালিশ চাপা দিয়ে খুন করেছে, এমনই অভিযোগ জানানো হয় পুলিশকে। সেই খবর শুনেই পুলিশ ছুটে আসে নিরঞ্জন পল্লীর টালির ছাউনি দেওয়া ভাড়া বাড়িতে। শুভাশিস চক্রবর্তী নামে এক ব্যক্তি জানায়, সে তার দাদা দেবাশীষ চক্রবর্তী কে মুখে বালিশ চাপা দিয়ে খুন করে। এই কাজ করে তিনি আত্মসমর্পণ করতে চায়। এই ঘটনা সত্যি বাস্তবকে চোখের সামনে তুলে ধরে, আসলে মানুষ কতটা অসহায়, তার ছাপ রয়েছে এই ঘটনায়।

পুলিশ সমস্ত কিছু খুঁটিয়ে দেখে ,ও তাতেই পুলিশের সন্দেহ হয়, মে যদি বালিশ চাপা দিয়ে মেরে ফেলা হয়, তাহলে ধস্তাধস্তির চিহ্ন থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু তাও তো নেই। মৃতের পাশে রাখা জলের বাটি ও কাপড়ের পট্টি। পরে অবশ্য ময়না তদন্তের মাধ্যমে আসল সত্য সামনে আসে, জানা যায় সেরিব্রাল হেমারেজ এর মাধ্যমে মৃত্যু হয় সেই ব্যক্তির। এখন প্রশ্ন উঠে আসে তাহলে কেন খুনের ঘটনা সাজিয়ে বলে সেই ব্যক্তি? আসলে উদ্দেশ্য একটাই নিজের পেট চালানো।

অভাবের সংসারে শেষ সাশ্রয় ছিল দাদার পেনশনের ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু দাদা যখন চলে গেল তখন ভাইয়ের খাবারের জোগান কে করবে? তাই তারা নিজেরাই পরিকল্পনা করেছিল যে , মৃত্যুর পর পুলিশকে খুনের গল্প বানিয়ে বললে। জেলের ভাত অন্তত খাওয়া যাবে। দুবেলা খাবারের ব্যবস্হা হওয়ার কারণেই এই পরিকল্পনা ছিল তাদের, সেই কারণেই নিজেকে খুনী প্রমাণিত করতে চেয়েছিল সে।

পুলিশ খবর নিয়ে দেখেছে, শুভাশিস তার মায়ের মৃত্যুর পর গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে জীবন শেষ করে দিতে চেয়েছিল, এমনকি গলায় ফাঁস লাগিয়ে মরে যেতেও চেয়েছিল, কিন্তু কোনোটাই সফল হয়নি। দাদার মৃত্যুর পর তার দূবেলার খাবারের দায়িত্ব নিয়েছে পুলিশ। সে একজন বি কম পাশ করা স্টুডেন্ট, তার শিক্ষাগত যোগ্যতার দরুণ কোনো কাজের খোজ পাওয়া যায় কিনা তাও দেখছে তারা। সাথে তার মানসিক অবসাদ দূর করার জন্য মনোবিদের সাহায্য নেবে পুলিশ।