খুব শীঘ্রই অস্ত্রোপচার হতে চলেছে ঐন্দ্রিলার! জানালেন সব্যসাচী

16
খুব শীঘ্রই অস্ত্রোপচার হতে চলেছে ঐন্দ্রিলার! জানালেন সব্যসাচী

এই অবস্থাতেও তাদের ভালোবাসার গায়ে বিন্দুমাত্র আঁচড় লাগেনি। তারা এখনো সকলকে ভালোবাসার পাঠ পড়িয়ে যাচ্ছেন।
এই দুনিয়ায় ভালোবাসার চেয়ে শক্তিশালী আর হয়তো কিছুই নেই। ভালোবাসার জন্য সবকিছু ত্যাগ করে দেয়া যায়। নাম, যশ, প্রতিপত্তি, ঐশ্বর্য সবকিছু। ভালোবাসা মানে সুখে দুঃখে একে অপরের পাশে থেকে যুদ্ধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়াটাই হলো ভালোবাসা।

ঐন্দ্রিলা শর্মা এবং সব্যসাচী চৌধুরী। একজন অভিনয় করছেন ‘জীয়নকাঠি’ ধারাবাহিকে আরেকজন করছেন ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’। ভালোবাসার শেকর যে এতটা গভীর হতে পারে সেটা ওনারা দুজনেই প্রমাণ করে দিয়েছেন সকলের কাছে। বহুদিন ধরেই ক্যান্সারে আক্রান্ত ঐন্দ্রিলা শর্মা। একাদশ শ্রেণিতে তার এই মারণ রোগ শরীরে বাসা বেঁধেছিল। তারপর অনেক যুদ্ধ অনেক লড়াই এর পরে তিনি আবার গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডে ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু ঈশ্বর তার এগিয়ে যাওয়ার পর এতটা মসৃণ করে রাখেন নি। আবারো ফিরে এসেছে তার শরীরে এই রোগ।

এ বছর সরস্বতী পুজোয় তিনি হঠাৎ শুটিং ফ্লোরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে ভর্তি করা হয় দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তাররা জানান যে তার ফুসফুসে আবারো ক্যান্সার থাবা বসিয়েছে। শুরু হয়েছে তার লড়াই। তবে তিনি যুদ্ধে একা নন। পাশে পেয়েছেন তার প্রেমিক সব্যসাচী কে। তার দেখভাল করা, সময় মতো খাইয়ে দেওয়া সব সময় পাশে থাকা সবটাতেই সব্যসাচী জুড়ে আছে।  ভালোবাসার মানুষ তার জীবনে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তার যুদ্ধের সময় পাশে থাকছেন। কেমোথেরাপি শুরু হয়েছে ঐন্দ্রিলার। তার ঘন লম্বা চুল উঠে গিয়েছে মাথায় নেই একটুও চুল। গ্রুপে বেশ কিছুটা ঘাটতি পরেছে কিন্তু তাদের ভালোবাসার বিন্দুমাত্র আঁচড় পড়েনি। তারা এই অবস্থাতেও সমস্ত মানুষকে ভালোবাসা শিখিয়ে যাচ্ছেন।

এবারে এই সপ্তাহেই হতে চলেছে ঐন্দ্রিলার শরীরে অস্ত্রোপচার। সব্যসাচী তার ফেসবুক একাউন্টে ঐন্দ্রিলার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই এ খবর জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন 13 সেমি × 11 সেমি × 9 সেমি আয়তনের একটি টিউমার ঐন্দ্রিলার ফুসফুসে বাসা বেধেছে। সব্যসাচী তার ভাষায় বলেন “একটা মাংসপিণ্ড পাঁজরের ভেতরে নিয়ে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দাপিয়ে তিনি অভিনয় করে গেছে। চুটিয়ে ঝগড়া করেছেন, স্কুটি নিয়ে দৌড়ে বেরিয়েছে। কিন্তু পাশে থেকে তিনি বিন্দুমাত্র বুঝতে পারিনি”। সব্যসাচী এও বলেন যে টিউমার এখন কেমোথেরাপির কারণে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বাকি যতটুকু আছে তার জন্য এবার অস্ত্রোপচার করতে হবে। কিন্তু সেই অস্ত্রোপচার বেশ ঝুঁকি সম্পন্ন তা ডাক্তাররাই জানিয়েছেন।

সব্যসাচী বলেন তার মিষ্টি প্রেমিকার মুখে মিষ্টি হাসি এখনো বর্তমান। অসম্ভব মনের জোর তার। সেই মনের জোর নিয়েই তিনি আজও লড়াই করে যাচ্ছেন। থামেনি বিন্দুমাত্র। এবং সকলের বিশ্বাস তিনি সবার মাঝে ফিরে আসবেন আবার এই গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডে। আরো অনেকগুলো বছর আমরা তাকে আমাদের মাঝে দেখতে পাবো। ঈশ্বরের প্রার্থনায় সারাজীবন যেন তার মুখে এই চাঁদের মতন হাসিটা লেগে থাকে।