আর সমুদ্রের ইলিশের অপেক্ষায় থাকতে হবে না, এবার বাংলার পুকুরেই চাষ হবে ইলিশ মাছ

17
আর সমুদ্রের ইলিশের অপেক্ষায় থাকতে হবে না, এবার বাংলার পুকুরেই চাষ হবে ইলিশ মাছ

ইলিশ প্রেমী বাঙালিদের জন্য সুখবর। মাছে-ভাতে বাঙালির জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এবার থেকে বাংলার পুকুরেই ইলিশ মাছ চাষ করার উদ্যোগ নেওয়া হলো। এবার থেকে আর সমুদ্রের ইলিশের অপেক্ষায় থাকতে হবে না। পাশাপাশি, রাজ্যের মধ্যেই ইলিশ চাষ করা সম্ভব হলে, মাছের দামও মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যেই চলে আসবে। ইলিশ কিনতে বাজারে গিয়ে আর হাতে ফোস্কা পড়ার উপক্রম হবে না।

রাজ্যে ইলিশ উৎপাদনের জন্যে নতুন এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে “আতমা প্রকল্প”। এ প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের পুকুর গুলিতে ইলিশের যে ব্রিড চাষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তার নাম পেংবা বা মনিপুরী ইলিশ। এই ইলিশের স্বাদ সমুদ্রের ইলিশের সাথে একেবারে সমতুল। ফলে, রাজ্যে যদি ব্যাপকভাবে ইলিশ মাছ চাষ করা যায়, তাহলে এই বাজারে মধ্যবিত্তের পাতেও ইলিশের দেখা মিলবে।

“আতমা প্রকল্প” এ ইলিশ মাছ উৎপাদনের মূল উদ্যোগ কারি কৃষি তথ্য ও উপদেষ্টা কেন্দ্র এবং কৃষি দফতর। গবেষণার জন্য মূলত উড়িষ্যা থেকে বাংলায় এই মাছের চারা নিয়ে আসা হয়েছিল। মঙ্গলবার এই প্রকল্পের আওতায়, পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে মাছ চাষীদের মনিপুরী ইলিশের চারা মাছ এবং মাছ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপকরণ বিতরণ করা হলো। কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর, এদিন ভাতারের মোট ১৮ জন মাছচাষীকে মনিপুরী ইলিশ মাছের চারা দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, বর্ধমান এক নং ব্লকেও প্রায় কুড়ি জন মাছচাষীকে ইলিশ মাছের চারা প্রদান করা হয়েছে। কৃষি দপ্তরের আধিকারিকেরা জানালেন, ইলিশ দেখতে অনেকটা দেশীয় পুঁটি মাছের মত, তবে আকারে তা অনেকটাই বড়। স্বাদে-গন্ধে একেবারে প্রকৃত ইলিশের মতই। এই মাছ চাষের অপর একটি সুবিধা হল, মাছ গুলিকে আলাদা করে খাবার প্রদানের দরকার পড়ে না। জলাশয়ে উপস্থিত উদ্ভিদ খেয়েই বেঁচে থাকে মনিপুরী ইলিশ।