“স্বাস্থ্য সাথী” কার্ড থাকা সত্ত্বেও বিনা চিকিৎসাতেই প্রাণ হারালেন সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ

3

রাজ্য সরকারের তরফ থেকে প্রদত্ত “স্বাস্থ্য সাথী” কার্ড থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা পরিসেবা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ, এমন অভিযোগ ইতিপূর্বে বহুবার উঠেছে। তবে এবার কার্ড থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা না পেয়ে রোগীর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে এল! এই ঘটনায় বেশ অস্বস্তিতে প্রশাসন। এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এবার “স্বাস্থ্য সাথী” প্রকল্প নিয়ে তড়িঘড়ি রাজ্যের সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী গৌতম দেব।

সূত্রের খবর, শিলিগুড়ির মাটিগাড়া প্রমোদনগরের বাসিন্দা সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ মোহাম্মদ গফফার সম্প্রতি এক প্রকার বিনাচিকিৎসাতেই প্রাণ হারিয়েছেন। পরিবারের তরফ থেকে অভিযোগ, তাদের কাছে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড ছিল এবং কার্ডে ওই বৃদ্ধের নাম থাকা সত্ত্বেও শিলিগুড়ির একাধিক নার্সিংহোম তার চিকিৎসা করতে আপত্তি জানায়। একের পর এক নার্সিংহোমের তরফ থেকে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ওই বৃদ্ধের পরিবার সূত্রে খবর, দীর্ঘ বেশ কয়েকদিন ধরেই শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। প্রথমে তাকে শিলিগুড়ির জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করানো হয়। পরিবারের অভিযোগ, সম্পূর্ণভাবে সুস্থ না হতেই হাসপাতালের তরফ থেকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাড়ি ফিরে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

এর পরপরই ফের তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর চেষ্টা করেন পরিবারের লোকজন। কিন্তু কোনো হাসপাতালই তখন আর ওই মুমূর্ষু বৃদ্ধের চিকিৎসা করতে এগিয়ে আসেনি। তাদের স্বাস্থ্য সাথী কার্ড দেখানো হলে তারা সাফ জানিয়ে দেয়, এই কার্ডের আওতায় বৃদ্ধের চিকিৎসা সম্ভব নয়। এদিকে পরিবারের কাছে বিশেষ অর্থ না থাকার দরুন অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসা করানোও তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। শেষমেষ বিনা চিকিৎসাতেই প্রাণ হারালেন ওই বৃদ্ধ। “স্বাস্থ্য সাথী” কার্ড, তার কোনো কাজেই লাগলো না।