সম্প্রতি গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে মৃত্যু ঘটলো একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘের

11
সম্প্রতি গুরুত্বর অসুস্থ হয়ে মৃত্যু ঘটলো একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘের

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তাণ্ডবে যে শুধু মানবজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এমনটা কিন্তু নয়। সুন্দরবন উপকূলবর্তী অঞ্চলের বন্য জীবনের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে এই ঘূর্ণিঝড়। সম্প্রতি তার প্রমাণ পাওয়া গেল সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের অধীনস্থ হরিখালি ক্যাম্পের হরিণভাঙা জঙ্গলে। একটি অসুস্থ পূর্ণবয়স্ক বাঘকে উদ্ধার করেও তাকে বাঁচাতে পারলেন না বনদপ্তরের আধিকারিকরা। কি কারনে বাঘের মৃত্যু হল, তা অবশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বনকর্মীদের অনুমান, ঘূর্ণিঝড়ের কারণেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বাঘটি।

রবিবার সকালে হরিণভাঙা জঙ্গলের একটি পুকুরের কাছে বাঘটিকে পড়ে থাকতে দেখেন বন দফতরের কর্মীরা। প্রথম থেকেই তাকে ভীষণ অসুস্থ মনে হচ্ছিল। ব্যাঙ্গালোরের আধিকারিকেরা সেখানে পৌঁছে তার প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু করেন এবং তাকে কাঁচা মাংস খেতে দেন। তবে বাঘটি এতটাই অসুস্থ ছিল যে সে খাবার খেতে পারেনি। বন দপ্তরের কর্মীরা এরপর তাকে স্যালাইন জল খাওয়ান।

প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে সজনেখালিতে আনার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন বনদপ্তরের আধিকারিকেরা। তবে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সজনেখালি রেঞ্জ অফিসে আনা হলেও শেষমেষ মৃত্যু হয় ওই পূর্ণবয়স্ক বাঘটির। তার বয়স ছিল দশ বছর। ওজন ১০০ কেজি। সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র-অধিকর্তা তাপস দাস জানাচ্ছেন, বাঘটির দেহে কোনও ক্ষত চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তার শরীরের অভ্যন্তরে কোনো সমস্যা থাকতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় এবং বন্যার কারণেই কার্যত বাঘটি এমন অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বলে মনে করছেন বন দপ্তরের আধিকারিকেরা। আপাতত বাঘটির ময়না তদন্ত না করে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে না বলেই জানিয়েছেন তারা। তাই বাঘটির দেহ ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে দিয়েছেন তারা।