এক চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীর তৎপরতায় বেঁচে গেল ৬৫ বছরের এক বয়স্ক মহিলা

29
এক চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীর তৎপরতায় বেঁচে গেল ৬৫ বছরের এক বয়স্ক মহিলা

গ্রাম বাংলার আনাচে কানাচে দেখতে পাওয়া যায় কালাচ সাপকে। এই সাপ এতটাই ভয়ঙ্কর যে, এই সাপের দংশনে রোগীর শরীরে কোনো রকম উপসর্গ দেখা যায় না। কিন্তু আস্তে আস্তে রোগী ঝিমিয়ে পড়ে এবং মাত্র ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই মৃত্যু হয়ে যায় তার। সঠিকভাবে চিকিৎসা না করতে পারলে রোগীর মৃত্যু অবধারিত। যে জটিল রোগকে অনেক চিকিৎসক ধরতে পারেন না, সেই রোগ নিখুঁত সময়ে চিহ্নিত করে মৃত্যুর হাত থেকে এক বয়স্ক মহিলাকে বাঁচিয়ে নিয়ে এলেন চতুর্থ শ্রেণীর এক কর্মী।

পূর্ব মেদিনীপুরের দক্ষিণ দামোদর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঘটনাটি ঘটেছে। বছর ৬৫ বছরের মাকে নিয়ে দুই ছেলে হাজির হয়েছিলেন সেখানে। সেই সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ছিলেন ডঃ অনুপম জানা, তাকে ওই মহিলার ছেলেরা জানান, মায়ের ডান পায়ে কালো রঙের একটি সাপ কামড়েছে। কিন্তু শরীরে কোনো রকম উপসর্গ নেই এমনকি কামড়ের দাগ পর্যন্ত নেই। মা সুস্থ রয়েছে। মেদিনীপুরে চন্দ্রকোনার প্রকোপ বেশি থাকার ফলে চিকিৎসক ওই মহিলাকে রক্ত পরীক্ষা করতে দেন। যার ফলাফল দেখে বোঝা যায়, চন্দ্রবোড়ার দংশনে রোগী আক্রান্ত কিনা।

যদি রোগীর রক্ত জমাট বাঁধে তাহলে বলতে হবে চন্দ্রবোড়া কামড়েছে, কিন্তু এক্ষেত্রে মহিলার রক্ত জমাট বাধেনি দেখা গেল। অর্থাৎ তিনি চন্দ্রবোড়ার কামড় খাননি। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণে রাখার কথা বললে মহিলার দুই ছেলে মাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যেতে চান। ইতিমধ্যেই অনুপম বাবু দুপুরের খাবার খেতে কোয়ার্টারে চলে যান। সেই সময়ে ওই মহিলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যবেক্ষণে ছিলেন।

কিন্তু বিকেল পাঁচটা নাগাদ হঠাৎ করে আচমকাই স্বাস্থ্যকেন্দ্র চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী পরেশ ভঞ্জো কোয়ার্টারে দৌড়ে যান এবং জানান, ওই মহিলাকে কালাচে কামড়েছে। শরীরে সমস্ত উপসর্গ আস্তে আস্তে প্রকট হচ্ছে। কথাটি শুনে একমূহূর্ত দেরী করেননি অনুপম বাবু। সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে গিয়ে বুঝতে পারেন কথাটি একেবারে সত্যি। এক মুহূর্ত দেরি না করে মহিলাকে পরপর দশটি এন্টিভেনাম ইনজেকশন দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন বৃদ্ধা। সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে তিনি শুক্রবার বাড়ি ফিরেছেন।

নিঃসন্দেহে এই কৃতিত্ব পুরোপুরি দেওয়া হয় চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীকে। পরেশ বাবু না থাকলে বোঝা যেত না আসল ঘটনাটা কি। বিষয়টি নিয়ে উচ্ছ্বসিত দক্ষিণ দামোদর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সকলে। কাজের প্রয়োজনে পরেশবাবু ডাক্তার বাবুদের সঙ্গে থেকে শিখে গিয়েছিলেন বহু কঠিন চিকিৎসার লক্ষণ কি কি হতে পারে। সেই পর্যবেক্ষণ অবশেষে কাজে লাগলো এবং বাঁচিয়ে দিল একটি প্রাণকে।

এই প্রসঙ্গে ডাক্তার দয়াল বন্ধু মজুমদার বলেছেন, কালাচ বড় রহস্যময় সাপ। একইসঙ্গে অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। উপসর্গ সহজে নির্ণয় করা যায় না। শিবনেত্র হওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে যদি ইনজেকশন না দেওয়া যায় তাহলে মৃত্যু নিশ্চিত। এই ক্ষেত্রে গ্রুপ ডি স্টাফ উপসর্গ চিনতে পেরেছিলেন বলে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছিল।