কয়েক দশক আগে শিলান্যাস হলেও আজও বাস্তবায়িত হয়নি ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান

17
কয়েক দশক আগে শিলান্যাস হলেও আজও বাস্তবায়িত হয়নি ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান

প্রতিবছর বর্ষার সময় এলেই ভাসতে শুরু করে ঘাটাল। অথচ আজ থেকে প্রায় কয়েক দশক আগে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের শিলান্যাস হয়েছিল। তারপর বছর ঘুরেছে, সরকার বদলেছে, তবে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান আজ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি। প্রতিবছর বর্ষার সময় বন্যার জলে ভেসেছে ঘাটালবাসী। বিগত প্রায় চল্লিশ বছর ধরে ঘাটালের বাসিন্দারা শুনে আসছেন ভরসার কথা। তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি।

প্রতিবছর বর্ষার সময় বন্যা হলে শিলাবতী, ঝুমি ও কংসাবতী নদীর দাপটে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায় তলিয়ে যায়। সেই জল রূপনারায়ণ নদী মারফত বেরিয়ে গেলে স্বস্তি পান ঘাটালবাসীরা। অন্যথায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় তাদের। প্রায় প্রতি বছর তাদের মাটির বাড়ি তলিয়ে যায়, আপনজন হারিয়ে যান জলের তলায়, গবাদি পশুদের নিয়ে কোনক্রমে পাকা বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন তারা। প্রতিবছর এমন দৃশ্য ঘাটালের চেনাদৃশ্য হয়ে উঠেছে।

আজ থেকে প্রায় পাঁচ দশক আগে সংসদে ঘাটালবাসীর সমস্যার কথা তোলেন বাম সাংসদ নিকুঞ্জবিহারী চৌধুরী। এরপর বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গড়ে তোলা হয়। সেই কমিটির ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের প্রস্তাব দেয়। ১৯৫৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের মানসিংহ কমিটি বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। কিন্তু তারপরেও বিভিন্ন কারণে বারবার থমকে গিয়েছে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান।

এরপর প্রায় দুই দশক পরে ১৯৮৩ সালে রাজ্যের তৎকালীন সেচ মন্ত্রী প্রভাস রায় ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের শিলান্যাস করেন। কিন্তু তার পরেও আটকে যায় এই কাজ। ১৯৯৩ সালে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটি গঠন করেন ঘাটালের বাসিন্দারা। তার পরেও কেটে গিয়েছে বেশ কয়েক বছর। বছরের পর বছর বন্যায় ভাসলেও ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের আশা এখনও ছাড়েননি এলাকার বাসিন্দারা।