করোনা ক্ষতিকারক হলেও এর বেশ কিছু উপকারী দিক তুলে ধরেছেন বিভিন্ন সংস্থা

11
করোনা ক্ষতিকারক হলেও এর বেশ কিছু উপকারী দিক তুলে ধরেছেন বিভিন্ন সংস্থা

বিশ্বজুড়ে, করোনা মহামারী যতই মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করুক, এর বেশ কিছু উপকারী দিকও কিন্তু রয়েছে। বর্তমান কর্মব্যস্ততার জীবনে পরিবারের সদস্যরা লকডাউন পিরিওডে একে অপরের কাছাকাছি আসতে পেরেছেন। বাইরের সমস্ত ব্যস্ততা ভুলে, পরস্পরের সাথে সময় কাটাচ্ছেন। এরই মাঝে করোনার অপর এক সুফলের কথা প্রকাশ্যে এলো।

বর্তমান যুগে, যে সকল পরিবার কর্মসূত্রে বিদেশে থাকেন, তাদের পরিবারের ছোট সদস্যরা নিজেদের মাতৃভাষায় ভুলে প্রবাসের ভাষাকেই আপন করে নিচ্ছে। এর জন্য কিন্তু বেশ মনোক্ষুন্ন পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা। আসলে, পরিবারের প্রথম যে সদস্য কর্মসূত্রে বিদেশে জীবন যাত্রা শুরু করেন, তিনি চান তার পরিবারের বাকি সদস্যরা যেন অন্ততপক্ষে নিজের দেশের ঐতিহ্য বহন করে।

করোনাকালে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি, কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন এবং আরও কিছু সংস্থার তরফ থেকে ইংল্যান্ড ও নরওয়েতে একটি বিশেষ সমীক্ষার চালানো হয়েছিল। সেই সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, বেশ কিছু পরিবারের ছোট শিশুরা লকডাউনে পরিবারের সাথে থেকে বিদেশী ভাষায় বদলে মাতৃভাষার প্রতিই অনুরক্ত হয়ে পড়েছে।

বিদেশে থেকে বাড়িতে মাতৃভাষায় কথা বলা হলেও, স্কুল-কলেজসহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের সাথে প্রবাসী ভাষাতেই কথা বলা হয়। ফলে তারাও দীর্ঘক্ষন বাইরে থাকার সুবাদে, মাতৃভাষার বদলে বিদেশী ভাষাতেই বেশি কথা বলে। কিন্তু করোনা এই চিত্র অনেকটাই পাল্টে দিয়েছে। সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের ৭০০টি পরিবার এবং নরোওয়ের ২০০টি পরিবারের মধ্যে বেশ কিছু পরিবারের শিশু-কিশোরেরা ইতিমধ্যেই মাতৃভাষায় কথা বলতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। মাতৃভাষার প্রতি শিশুদের এই আকর্ষণ বোধ রীতিমতো “সৌভাগ্য” হিসেবেই বিবেচনা করছেন পরিবারের বড় সদস্যরা।