সন্তানদের দুধ খাওয়ানোর সময় যে সমস্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হয় মায়েদের

25
সন্তানদের দুধ খাওয়ানোর সময় যে সমস্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হয় মায়েদের

প্রত্যেক শিশুর জন্ম নেবার পর তার আসল আশ্রয় হয়ে যায় তার মা। তার প্রথম শান্তির জায়গা থেকে আরম্ভ করে তার প্রথম খাদ্য সরবরাহ হয় তার মায়ের থেকে। মাতৃদুগ্ধ পান করে ছয় মাস পর্যন্ত একটি শিশুকে বেঁচে থাকতে হয়। চিকিৎসকরা মনে করেন যে একটি শিশুর জন্য সবথেকে পুষ্টিকর খাদ্য হলো মায়ের দুধ। একটি শিশু যদি ছয় মাস পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে মায়ের দুধ পান করতে পারে তাহলে সারা জীবন সে রোগ থেকে দূরে থাকতে পারে। তবে সন্তানদের দুধ খাওয়ানোর সময় কিছু কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হয় মায়েদের। এই সময়ে মায়েদের পুষ্টির দিকে যেমন নজর দিতে হয় তেমনই নজর দিতে হয় কিছু খাবার দাবারের প্রতি।

সি ফুড: মাতৃদুগ্ধ পান করানোর সময় কোন রকম সি ফুড না খাওয়াই উচিত মায়েদের। বেশি সমুদ্রের মাছ খেলে শরীরে বেড়ে যায় মারকিউরি পরিমাণ।

প্রসেসসড ফুড: মাতৃদুগ্ধ পান করানোর সময় বেশিরভাগ ঘরের রান্না করা খাবার খাওয়া উচিত। চিকিৎসকরা বলছেন যে, যারা বাচ্চাকে স্তন্যপান করান তাদের দূরে থাকতে হয় প্রসেসসড ফুড থেকে। মা যদি বাইরের খাবার খায় তাহলে বাচ্চার অ্যালার্জি হতে পারে।

মশলাদার খাবার: বেশি তেল মশলা খাবার না খাওয়াই উচিত মাতৃদুগ্ধ পান করানোর সময়। স্পাইসি খাবার বেশি খেলে গর্ভস্থ শিশুর সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও যে মায়েরা সদ্যজাত শিশুকে দুধ খাওয়ান, তারের মশলাদার খাবার থেকে দূরে থাকা উচিত।

মিষ্টি জাতীয় খাবার: চিকিৎসকরা মনে করেন যে যে সব মায়েরা স্তন্যপান করান, তাদের মিষ্টিজাতীয় খাবার না খাওয়াই উচিত।

চা-কফি থেকে দূরে থাকুন: বেশি চা কফি খেলে মায়ের সাথে সাথে বাচ্চাদের ঘুমের সমস্যা হতে পারে। শিশুরা বেশি উত্তেজিত হয়ে যায়। তাই খুব বেশি হলে তিন থেকে চার কাপ চা বা কফি খেতে পারেন একজন মা, তার থেকে বেশি খেলে বাচ্চার জন্য হতে পারে বিপদ।

মদ পান করবেন না: বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোর সময় চেষ্টা করবেন মদ্যপান থেকে বিরত থাকার। গর্ভাবস্থায় এবং বাচ্চার জন্মের পর নিজেকে মদ থেকে দূরে রাখাই ভালো। সামান্য মদ কিন্তু বাচ্চার বিকাশে প্রভাব ফেলে দিতে পারে। যদি খেতেই হয় তাহলে যতক্ষণ না সেই মদ আপনার শরীর থেকে বেরিয়ে যায়, ততক্ষণ বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়াবেন না।

মাংস: অতিরিক্ত মাংস থাকে বেশি পরিমাণ ফ্যাট। অতিরিক্ত মাংস খেলে মায়ের ওজন বেড়ে যায়। তাই মাংস জাতীয় খাবার থেকে কিছুটা হলেও বিরত রাখুন নিজেকে।

অ্যাসিডিক খাবার: কমলালেবু পাতিলেবু অথবা টমেটোর মত জিনিস খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখার চেষ্টা করুন। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেলে বাচ্চা স্বাস্থ্যের উপর নজর রাখুন। বাচ্চা যদি কোনরকম গ্যাসের সমস্যা হয় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে ফল অথবা সবজি খাওয়া থেকে বিরত রাখুন।