বাঘের সাথে যুদ্ধ করে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এলেন এক মৎস্যজীবী

4
বাঘের সাথে যুদ্ধ করে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এলেন এক মৎস্যজীবী

সুন্দরবনের মৎস্য জীবীদের বেঁচে থাকার জন্য এবং জীবিকা নির্বাহ করার জন্য প্রতিমুহূর্তে লড়াই করতে হয়। জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার জন্য যেভাবে তারা লড়াই করেন, তা আপনার এবং আমার মত সাধারন মানুষের করার হয়তো ক্ষমতা নেই। কিন্তু এত কিছুর পরেও তারা নিজেদের মুখের হাসি ফুটিয়ে রাখেন সব সময়। এমনই এক মৎস্যজীবী মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেলেন মাত্র কয়েক মুহূর্তের জন্য।

ওই মৎস্যজীবী কাঁকড়া ধরে ফিরছিলেন নৌকার দিকে। আপন-মনে যাচ্ছিলেন তিনি, এমন সময় হঠাৎ করে সুন্দরবনের বিশাল একটি বাঘ তাকে পেছন থেকে হামলা করে। প্রাণ ভয়ে চিৎকার শুরু করেন ওই মৎস্যজীবী। চিৎকার শুনে সঙ্গে সঙ্গে সেখানে লাঠি হাতে উপস্থিত হন অন্য মৎস্যজীবীরা।

মৎস্যজীবী পঞ্চানন ভগতার সঙ্গে এমন একটি কান্ড ঘটে গেল শনিবার, যা হয়তো মৃত্যু পর্যন্ত তিনি ভুলতে পারবেন না। শনিবার স্ত্রী সহ প্রতিবেশী ৯ সদস্যকে নিয়ে দক্ষিণ সুন্দরবনের জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে গিয়ে ছিলেন তিনি। বছর পঞ্চাশেক মৎস্যজীবী পঞ্চানন বাবু যখন বাড়ি ফিরে আসি ঠিক তখনই ঘটে বিপত্তি। সারাদিনের কাজ সেরে যখন সকলে নৌকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখন কাঁকড়া ঝুড়ি নিয়ে পঞ্চানন বাবু কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিলেন। ঠিক সেই মুহুর্তে পেছন থেকে তাকে আক্রমণ করে বিশাল বাঘ।

প্রাণ ভয়ে চিৎকার করতে শুরু করলেই সঙ্গীরা লাঠি নিয়ে ছুটে আসেন সেখানে। রীতিমতো যমে-মানুষে টানাটানি করার পর প্রায় এক ঘন্টার প্রচেষ্টায় বাঘের মুখ থেকে পঞ্চানন বাবুকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন সঙ্গীরা। লাঠির বাড়ি খেয়ে অবশেষে হার স্বীকার করতে বাধ্য হল বাঘ, যদিও যুদ্ধে কিছুটা আহত হয়েছেন পঞ্চানন বাবুও। আহত অবস্থায় তাকে ভর্তি করানো হয় কাকদ্বীপ হাসপাতালে। তবে সঙ্গীদের প্রচেষ্টার ফলে এ যাত্রায় বেঁচে গেল পঞ্চানন বাবুর।