আফগানিস্তানের নতুন সিদ্ধান্ত, এবার থেকে বাবার নামের সাথে মায়ের নামও থাকবে পরিচয়পত্রে

5
আফগানিস্তানের নতুন সিদ্ধান্ত এবার থেকে বাবার নামের সাথে মায়ের নামও থাকবে পরিচয়পত্রে

ঘটনাটি ঘটেছিল তিনবছর আগে, আর তার ফলেই এই নতুন এক সিদ্ধান্ত যা আফগানিস্তানের নতুন এক নিয়ম যোগ করল। আসলে এক সন্ধ্যাতে একজন লেখকের স্ত্রীর মৃত্যুর শোকজ্ঞাপন অনুষ্ঠানে একটি চিঠি হাতে এসে পরেছিল, সেখানে সব কিছুই লেখা ছিল, কিন্তু যার জন্য এই অনুষ্ঠান সেই মহিলার নাম লেখা ছিল না। আর এটা দেখেই হেরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক লালে ওসমানি সরব হয়েছিলেন। তার প্রশ্ন ছিল কেন মহিলাদের নাম থাকবে না? এটা নতুন কিছুই নয়, কারণ আফগানিস্তানের নিমন্ত্রণ পত্র বা বিভিন্ন কাগজপত্রে মেয়েদের নাম থাকে না। কিন্তু কেন থাকবে না? এটা নিয়েই সরব হয়েছিলেন তিনি, যার ফল এবার পেল সারা আফগানিস্তানের মহিলারা। তিনি দাবি জানিয়েছিলেন পরিচয়পত্রের মধ্যে বাবার নামের সাথে নাম রাখতে হবে মায়েরও।

এবার এই নাম রাখার কথা গ্রহণ করেছে আফগান সরকার। সেখানে গত সপ্তাহেই ঠিক করা হয়েছে জনগণনা আইন‌। আর সেখানেই এই দাবিকে মেনে নেওয় হয়েছে। তবে সেখানে পার্লামেন্টে আইন পাশ হওয়া বাকি আছে। কিন্তু ভালো খবর এটাই গরমের সময় পার্লামেন্টে এই আইন সহজেই পাশ হয়ে যাবে, যার ফলে এখন থেকে বাবার সাথে মায়েরাও সমান অধিকার পাবে পরিচয় পত্রে।

তবে এই কাজট একেবারেই সহজ ছিল না, কারণ এই কাজটি প্রথমে তিনি স্যোশাল মিডিয়ায় আপলোড করেন ও সবাইকে সজাগ হতে বলেন। টানা তিনবছরের লড়াইয়ের ফল। তিনি এই নিয়ে বলেছিলেন, এই সব দেশের জনগণনা আইন সেইসব মেয়েদের স্বীকৃতি দিতে বাধ্য যারা আসলে স্বামী বিচ্ছিন্না, যাদের স্বামী নিখোঁজ, যারা স্বামীকে যুদ্ধে হারিয়েছে তাদের জন্য এই আইন খুবই দরকার। কেন একজন মা তার নাম দিয়ে তার সন্তানের পাসপোর্ট পর্যন্ত করাতে পারবে না? এরপরেই ধীরে ধীরে মানুষ তার সমর্থনে আসে ও ধীরে ধীরে সবাই এটা মানতে বাধ্য হয়।