এই দুটি জিনিস মেনে চললে জীবনে কখনই সাফল্য আসে নাঃ চানক্য

11
এই দুটি জিনিস মেনে চললে জীবনে কখনই সাফল্য আসে নাঃ চানক্য

আচার্য চাণক্য তার নীতির জন্য পরিচিত, তিনি বিষ্ণুগুপ্ত, কৌটিল্য ইত্যাদি নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি অত্যন্ত গুণী পণ্ডিত ছিলেন। শিক্ষক হওয়ার পাশাপাশি তিনি একজন দক্ষ অর্থনীতিবিদও ছিলেন। নিজস্ব দক্ষতাকে আরও শক্তিশালী করে তোলার জন্য চাণক্য সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে গভীরভাবে অধ্যয়ন করেছিলেন। চাণক্য তার দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে জীবনে সাফল্য অর্জনের জন্য অনেক নীতি তৈরি করেছিলেন। তাঁর রাজনীতি, দর্শন, জীবন সবই যেন রহস্যে মোড়া। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লেখা ‘অর্থশাস্ত্র’ আর ‘নীতিশাস্ত্র’ নিয়ে আজও আলোচনা চলে। কারণ এই শাস্ত্রের রাজধর্ম ও রাজনীতি সংক্রান্ত বার্তাগুলির প্রাসঙ্গিকতা আজও বহাল।

জীবনে সাফল্য অর্জন করতে কে না চায়! কিন্তু সেই সাফল্য অর্জনের পথ মোটেও সহজ ব্যাপার নয়৷ জীবনে সফলতা চাইলে নানান রকমের উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

চাণক্যের নীতি অনুসারে, জীবনে সফল হওয়ার জন্য মূলত দুটি উপাদান লাগে৷ চাণক্য নীতির মূল বক্তব্য, রাস্তা সহজ নয়, তাই ভয় না পেয়ে লড়াই করাই শ্রেয়। তবে লড়াই ছেড়ে মাঝপথে বেরিয়ে যাওয়ার কোনও দিশা নেই চাণক্য নীতিতে। এ প্রসঙ্গে চাণক্য বলেন, পরিশ্রম ছাড়া কখনোই উন্নতির পথ পার করা সম্ভব নয়। যাঁরা নিরলস পরিশ্রম করতে পারেন, তারাই কেবলমাত্র সাফল্যের সন্ধান পান। তাই জীবনে উন্নতির জন্য আচার্য চাণক্যের নীতি মেনে চললে জীবনে সাফল্যের পথ সুগম হয়, সে যত কঠিন পরিস্থিতিই হোক না কেন।

চাণক্যের মতে, জীবনে দুটি জিনিসের অভাবে কখনও কোনো ব্যক্তির দুঃখ প্রকাশ করা উচিত নয়৷ কারণ এর ফলেই ভবিষ্যতে ব্যক্তির দ্বিগুণ উপকার হবে। কোন কোন জিনিস তা নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছা করছে! চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক৷

আপনি যদি কঠোর পরিশ্রম এবং সততার সঙ্গে ভাল কাজ করার পরেও প্রাপ্য মর্যাদা বা প্রশংসা না পান তাহলে দুঃখ করবেন না। যদিও ক্ষণিকের জন্য দুঃখ পাওয়া খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। চাণক্য বলেছেন, ভবিষ্যতে এই কঠোর পরিশ্রমই আপনাকে উন্নতির শিখরে উঠতে সাহায্য করবে।

এই যেমন জলে তেল মেশালেও তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়, তেমনি একজন উদার, ভদ্র, পরিশ্রমী, সৎ ও ভাল আচরণের মানুষ পৃথিবীর সকলের কাছেই নিজের কাজের মাধ্যমে পরিচিত হয়।

তাই জীবনের সবচেয়ে বড় ধর্মই হল দান। প্রত্যেক মানুষেরই সামর্থ্য অনুযায়ী মন থেকে দান করা উচিৎ৷ দেখবেন এর মাধ্যমে আনন্দলাভ হবে। তবে অল্প দান করতে পারবেন এমনটা ভেবে কখনও দুঃখ করা উচিত নয় কারণ আপনি যদি নিঃস্বার্থ ভাবে একমুঠো খাদ্যশস্যও দান করেন তাহলে তা হাজার গুণ দানের সমান পুণ্যলাভ হয়। তবে দান করছেন ভেবে কখনোই তার বিনিময়ে কিছু পাওয়ার ইচ্ছা রাখবেন না।