ভিন ধর্মে বিবাহ আইন সংগত, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার! যুগান্তকারী রায় কর্ণাটক হাইকোর্টের

6
ভিন ধর্মে বিবাহ আইন সংগত, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার! যুগান্তকারী রায় কর্ণাটক হাইকোর্টের

“লাভ জিহাদ” নিয়ে বিজেপি শাসিত রাজ্য গুলিতে যেখানে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে, সেখানে বিজেপি শাসিত একটি রাজ্যের আদালত সংবিধানসিদ্ধ ভিন ধর্মে বিবাহ নিয়ে এক অভিনব রায় প্রদান করলো। কর্ণাটক হাইকোর্টের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হলো, ভারতীয় সংবিধান অনুসারে নিজপছন্দ অনুসারে ভিন ধর্মে বিবাহ আইন সংগত। এটি মানুষের মৌলিক অধিকারও বটে। অতএব ভিন ধর্মে বিবাহতে দোষের দেখছে না কর্ণাটকের আদালত।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কর্ণাটক আদালতে ভিন ধর্মে বিবাহকে একটি মামলা দায়ের হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক মহিলা এক মুসলিম যুবককে বিবাহ করতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কর্ম সূত্রে তারা একই জায়গায় কাজ করেন। এই বিবাহতে যুবকের পরিবারের তরফ থেকে কোনো আপত্তি না থাকলেও যুবতীর পরিবারের তরফ থেকে প্রবল আপত্তি প্রদর্শন করা হয়। শুধু তাই নয়, পরিবারের তরফ থেকে ওই মহিলার উপর অত্যাচার চালানো হয় বলেও জানানো হয়েছে।

পরে এক এনজিওর তরফ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করে ওই মহিলাকে তার পরিবার থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই নিয়ে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে কনাটক আদালত এই রায় প্রদান করেছে। বিচারকের বক্তব্য অনুসারে, ভারতীয় সংবিধান অনুসারে স্বেচ্ছায় ভিন ধর্মে বিবাহতে দোষের কিছু নেই। আদালতের তরফ থেকে এও জানানো হয়েছে, শীঘ্রই এ প্রসঙ্গে নতুন আইন কার্যকর করা হবে সেই রাজ্যে।

“লাভ জিহাদ”! গোঁড়া হিন্দু সমর্থকদের দ্বারা প্রবর্তিত এই শব্দটি প্রধানত হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাহের বিরোধিতা করতেই প্রবর্তন করা হয়েছিল। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দাবি, প্রেম বিবাহের নামে হিন্দু ধর্মাবলম্বী মহিলাদের জোর করে ধর্মান্তরিতকরণের উদ্দেশ্যেই “লাভ জিহাদ” করে থাকে মুসলিম ধর্মাবলম্বী যুবকেরা। তবে এই যুক্তির বাস্তবতা কতটা? ভালোবাসার ক্ষেত্রে আদেও কি জাতের প্রসঙ্গ ওঠে? সেই প্রশ্নই আবারো একবার উত্থাপিত হলো কর্ণাটক হাইকোর্টের বিচার মঞ্চে।