আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে এখনও আটকে প্রায় এক হাজার ভারতীয়

17
আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে এখনও আটকে প্রায় এক হাজার ভারতীয়

বর্তমানে আমরা সকলেই তাকিয়ে রয়েছি আফগানিস্তানের দিকে। আফগানিস্তানের বাসিন্দাদের প্রতি আমরা জানাচ্ছি সহমর্মিতা। তবে শুধুমাত্র আফগানিস্তানের বাসিন্দা নয়, আফগানিস্তানে বসবাসকারী কিছু ভারতীয়দের ওপর নিষ্ঠুর ভাবে অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে তালিবান জঙ্গিরা। ভারতীয় এবং অন্যান্য দেশের বাসিন্দা মিলিয়ে প্রায় দেড়শ জনকে অপহরণ করেছে তালেবান জঙ্গী। কাবুল বিমানবন্দরে বাইরে তালিবানদের হাতে অপহৃত হয়েছেন ভারতীয়রা।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, এই অপহৃতদের তালিকায় রয়েছেন কিছু শিখ আফগান। বিদেশমন্ত্রক ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর করা শুরু করে দিয়েছেন। তবে বিদেশমন্ত্রক তরফ থেকে কোনো কথা না শুনতে পাওয়া গেলেও তালিবান মুখপাত্র দাবি করেছেন, এ ধরনের কোনো অপহরণ করা হয়নি। বিমানবন্দরের অন্য একটি পথ দিয়ে তাদের বিমানবন্দরের অন্যদিকে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত রবিবার তালিবান কাবুলকে দখল করার পর থেকে পরিষ্কার হয়ে যায় আফগানিস্তান আরো একবার চলে গেল তালিবানদের অধীনে। এরপর থেকেই বহু মানুষ তালেবান জঙ্গিদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে ভিড় করছেন এবং আফগানিস্তান ছেড়ে অন্য দেশে চলে যেতে চাইছেন। শনিবার আফগানিস্থানে আটক ১৫০ জনের বেশী ভারতীয়দের তাজাকিস্তানের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারপর তাদের ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

ভারত ইতিমধ্যেই কাবুলের ভারতীয় দূতাবাসের সমস্ত কর্মী এবং সদস্যদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হলেও এখনও আফগানিস্তানের নানা প্রান্তে আটকে রয়েছে প্রায় এক হাজার ভারতীয়। ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বস্তরের চেষ্টা করে যাচ্ছে ভারত সরকার। তবে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছেন, ভারতীয়দের ফেরানোর কাজে সবথেকে বেশি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আফগানিস্তানের থাকা ভারতীয়দের অনেকেই দূতাবাসে নিজেদের নাম নথিভুক্ত না করানো।

অন্যদিকে কাবুলের এক গুরুদ্বারে আশ্রয় নিয়েছেন অন্তত ২০০ শিখ এবং হিন্দু। গত বুধবার তালিবান মুখপাত্র একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন যেখানে দেখা যাচ্ছে, গুরুদ্বারের প্রধান সেখানে জানিয়েছেন, তালিবানের তরফ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লির কাছে তালিবান নেতারা বার্তা পাঠিয়েছেন, আফগানিস্তানে থাকা ভারতীয়রা নিরাপদে রয়েছে। তাদের নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই অযথা। যদিও তালিবান নেতাদের এই মুহূর্তে বিশ্বাস করার কোন কারণ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।