বিষ খাইয়ে বস্তাবন্দি করে ফেলে দেওয়া হল প্রায় ৫০ টি বাঁদরকে! তদন্তে নামলো বনদপ্তর

15
বিষ খাইয়ে বস্তাবন্দি করে ফেলে দেওয়া হল প্রায় ৫০ টি বাঁদরকে! তদন্তে নামলো বনদপ্তর

বাঁদরের বাঁদরামির মাত্রাও অতিক্রম করে ফেলল মানুষের নৃশংসতা। কর্ণাটকের হাসান জেলার চৌদানাহল্লি গ্রামে ৫০টিরও বেশি বাঁদরকে প্রথমে বিষ খাইয়ে তারপর বস্তার মধ্যে ভরে বেধড়ক পিটিয়ে ফেলে রাখা হল রাস্তার পাশে। রাস্তার ধারে এতগুলি বস্তা পড়ে থাকতে দেখে গ্রামবাসীদের সন্দেহ হয়। এরপর বস্তার মুখ খুলতেই তাদের চক্ষু চড়কগাছ! বস্তার ভেতর থেকে অসুস্থ বাঁদরগুলিকে উদ্ধার করেন তারাই। যদিও ৩৫টি মৃত বাঁদরের দেহ মিলেছে ওই বস্তাগুলি থেকে।

তবে ওই বস্তা গুলির ভেতর থেকেই ২০টি বাঁদরকে উদ্ধার করেছেন তারা, যারা প্রাথমিকভাবে আহত অবস্থায় ছিল। পরে তাদের চিকিৎসা করিয়ে তাদেরকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হয়েছে। গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, আহত বাঁদর গুলিকে যখন তারা প্রথম উদ্ধার করেন তখন তারা শ্বাস নিতে পারছিল না। তারা দাবি করছেন বাঁদরগুলিকে বস্তাবন্দি করে তাদের উপর নৃশংস অত্যাচার চালানো হয়েছে। তারপর তাদের রাস্তায় ধারে ফেলে রাখা হয়েছিল।

বাঁদর গুলিকে ঐ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে গ্রামবাসীরা এই প্রাথমিকভাবে তাদের জল দিয়ে সুস্থ করার প্রচেষ্টা করেন। এরপর তারা পুলিশ এবং বন দপ্তরে খবর দেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃত বাঁদর গুলিকে কবর দেওয়ার ব্যবস্থা করে এবং আহত বাঁদর গুলিকে হাসপাতালে পাঠানোর বন্দোবস্ত করে। বন দপ্তর এর তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে ওই বাঁদর গুলিকে প্রথমে বিষ দেওয়া হয়েছিল। তারপরেই তাদের বেধড়ক পিটিয়ে রাস্তার ধারে ফেলে রাখা হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এই ঘটনায় পৃথক তদন্ত করবেন বলে জানিয়েছেন। কে বা কারা, কী উদ্দেশ্য নিয়ে বাঁদরের দলের উপর এমন ভাবে নৃশংস অত্যাচার চালালো, তা এখনো জানা যায়নি। তবে এই ঘটনার খবরে নেট মাধ্যমে মানুষের নৃশংসতার বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন পশুপ্রেমীরা।