ছেলের মৃত্যুর পর মিগ-২১ পুরাতন বিমান গুলি অবিলম্বে বাতিলের দাবী জানালেন অভিনব চৌধুরীর বাবা

12
ছেলের মৃত্যুর পর মিগ-২১ পুরাতন বিমান গুলি অবিলম্বে বাতিলের দাবী জানালেন অভিনব চৌধুরীর বাবা

গত শুক্রবার ভোরের দিকে বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ভারতীয় বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন লিডার অভিনব চৌধুরীর মৃত্যু হয়। ভারতীয় বায়ুসেনা বিভাগের অতি পুরাতন মিগ-২১ বাইসন বিমানটি মাঝ আকাশে আচমকা ভেঙ্গে পড়াতেই কার্যত এই অনভিপ্রেত দুর্ঘটনাটি ঘটে যায়। যার ফলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অভিনব চৌধুরীর। তার মৃত্যুর পর থেকেই ভারতীয় বায়ুসেনা বিভাগের এই আদ্দিকালের অতি পুরাতন এবং যান্ত্রিক ত্রুটি সম্পন্ন বিমান বাতিল করার দাবি উঠেছে।

মিগ-২১ বাইসন বিমানগুলিকে অবিলম্বে বাতিল করার দাবি তুলেছেন অভিনব চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি যান্ত্রিক ত্রুটি সম্পন্ন এই বিমান আসলে এক একটি “উড়ন্ত কফিন”! ভারতীয় বায়ুসেনা বিভাগের পাইলটদের পক্ষে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই পুরনো বিমানগুলি। ভারত সরকারের উচিত অবিলম্বে বিমানগুলিকে বাতিল ঘোষণা করা। এমনটাই দাবি করেছেন অভিনব চৌধুরীর বাবা সত্যেন্দ্র চৌধুরী।

ভারতীয় বায়ুসেনা বিভাগের পাইলট ছেলেকে হারিয়ে মীরাটের গঙ্গাসাগর কলোনির বাড়িতে স্বভাবতই শোকের আবহাওয়া ছেয়ে গিয়েছে। অভিনব চৌধুরীর বাবা সত্যেন্দ্র চৌধুরী কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “আমি আমার ছেলেকে হারিয়েছি। আমি সরকারের কাছে হাতজোড় করে এই মিনতি জানাতে চাই যে মিগ-২১ বিমান এইবার অন্ততপক্ষে ভারতীয় বায়ুসেনা বিভাগে বাতিল ঘোষণা করা হোক। ভারতের আর কোনও বাবা-মা কে যেন আমার মত এমন অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন না হতে হয়।”

প্রসঙ্গত ভারতীয় বায়ুসেনা বিভাগের নবাগত পাইলটদের এখনো এই পুরনো বিমানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। রাশিয়ার এই বিমান গুলি আজ থেকে অন্ততপক্ষে ৩০ বছর আগেই বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। মাঝ আকাশে বারংবার যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়েছে এই বিমানগুলি। ভারতীয় পাইলটদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করে। তাহলে এখনো এই জরাজীর্ণ বিমান গুলিকে কেন ব্যবহার করা হচ্ছে? প্রশ্ন তুলছেন অভিনবর পরিচিতরা।