স্মার্টফোনে বুক করা বাইকে উঠে চরম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলেন এক যুবতী

16
স্মার্টফোনে বুক করা বাইকে উঠে চরম অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলেন এক যুবতী

লকডাউনের মধ্যে দীর্ঘদিন সব রকম পরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় বেড়েছিল রাপিদো এবং পার্সোনাল গাড়ির রমরমা। যে ব্যক্তি দের প্রতিদিন অফিসে হাজিরা দিতে হতো তারা ব্যবহার করতেন রাপিদো অ্যাপ। তেমনই একজন তরুনী রাতে ফেরার জন্য স্মার্টফোনে বুক করেছিলেন বাইক। কিন্তু তার জন্য যে তাকে ভয়াবহ এটি অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হবে তার বোধহয় তিনি কোনোদিন ভাবতে পারেননি।

রবিবার রাত ন’টা নাগাদ আলিপুর থানা এলাকার দেশি লেনের রেস্তোরাঁ থেকে বাড়ি ফেরার সময় অনলাইনে একটি বাইক বুক করেন গাঙ্গুলী পুকুরের এক তরুণী। তরুণীর অভিযোগ অনুযায়ী বাইকে উঠার কিছুক্ষণ পর তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে শুরু করেন বাইক চালক। প্রেম সংক্রান্ত প্রশ্ন আস্তে আস্তে সমস্ত শালীনতা ফিরিয়ে যায়। এরপর বাইক আরোহী প্রশ্ন করেন তার শরীর সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন।

এক সময়ে রীতিমতো বিরক্ত হয়ে তরুণী বাধ্য হয়ে গন্তব্যের আগেই নেমে পড়েন। এরপর বাকি রাস্তা তিনি হেঁটে বাড়ি ফেরেন।কিন্তু তিনি যখন হেটে বাড়ি ফিরছিলেন তখনও তার পিছু নিয়েছেন সেই বাইক আরোহী। এরপর তরুণী প্রথমে সংশ্লিষ্ট অনলাইন বাইক সংস্থায় সমস্ত অভিযোগ জানিয়ে রিপোর্ট করেন। এরপর কলকাতা পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হোন। লালবাজারে পাঠান ইমেইল।

তরুণীর অভিযোগ পেয়ে রীতিমতো তৎপর হয়ে পড়েন পুলিশ। গড়ফা থানার সাব-ইন্সপেক্টর বন্ধু চরণতল ওই তরুণী সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেন। হরিদেবপুর থানা এলাকায় ঢালীপাড়া তে খোঁজ পাওয়া যায় অভিযুক্ত আলম হোসেনের।হরিদেবপুর থানা সহায়তায় মঙ্গলবার মধ্যরাতে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত বাইক আরোহী কে। তাকে আজ পেশ করা হবে আদালতে।

যাত্রী সুবিধার জন্য অনেকেই অনলাইন ক্যাব অথবা বাইক ব্যবহার করে থাকেন। চলতি পরিস্থিতিতে এই ধরনের পরিবহন মানুষের পক্ষে অনেকটাই স্বস্তিদায়ক। কিন্তু যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন এই তরুণী তাতে এরপর এই ধরনের পরিষেবা নেবার আগে বহুবার ভাবতে হবে যে কোন মানুষকে। যদিও কলকাতা পুলিশের তৎপরতায় খুবই সন্তুষ্ট যুবতী। তিনি এখন চান যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেন।