ভয় নয় বরং ভালবেসে ভয়ঙ্কর সরীসৃপ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বেহালার এক যুবক

12
ভয় নয় বরং ভালবেসে ভয়ঙ্কর সরীসৃপ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বেহালার এক যুবক

“যে সাপের চোখ্‌ নেই, শিং নেই নোখ্‌ নেই”, তেমন কোনো সাপ কিন্তু নয়! এই সাপ কিন্তু এক কথায় যাকে বলে “রীতিমতো নখদন্ত বিশিষ্ট” সর্প বিশেষ। অর্থাৎ কিনা অত্যন্ত বিষধর সাপ, যার “এক ছোবলেই ছবি” হয়ে যেতে পারে মানুষ। তেমনই সব ভয়ঙ্কর সরীসৃপ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বেহালার আদর্শনগরের বাসিন্দা অভিষেক দাস। সাহসী এই যুবক সাপকে কিন্তু একেবারেই ভয় পান না, বরং ভালোবাসেন।

সাপের প্রতি তার প্রীতি খুব ছোটবেলা থেকেই। তাই বেহালা হাই স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করার পরপরই সাপ নিয়ে পড়াশোনা করতে আরম্ভ করেন তিনি। প্রসঙ্গত, ভারতবর্ষের মতো দেশে এই ভয়ঙ্কর বিষাক্ত সরীসৃপের প্রতি পড়ুয়াদের তেমন আগ্রহ থাকে না। তবে অভিষেক দাসের ছিল। সর্প বিশারদ অভিষেক তাই এলাকাতে স্নেক হান্টারম্যান হিসেবেই পরিচিতি লাভ করেছেন।

সাপেদের প্রকৃতি সম্পর্কে জানার জন্য তিনি বেদিয়াদের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করেছেন। বলা ভালো, প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এলাকায় কারোর বাড়িতে সাপ ঢুকলে তিনি তাদের উদ্ধার করেন। ত্রিশ বছরের জীবনে তিনি জলঢোড়া, বোড়া, কালাচ, কিং কোবরা, গোসাপের মতো বহু ভারতীয় প্রজাতির সরীসৃপ উদ্ধার করেছেন। এই কাজ করতে গিয়ে তাকে কিন্তু বহু বার বিপদের সম্মুখীনও হতে হয়েছে।

অভিষেক জানাচ্ছেন, সাপ নিয়ে পড়াশোনা করার ইচ্ছে থাকলেও তা পূরণ হওয়ার উপায় নেই এই দেশে। কারণ ভারতবর্ষে সাপেদের নিয়ে পড়াশোনা করার মতো পরিকাঠামো নেই। আবার অভিষেকের পেশায় অটোচালক বাবা সুনীল দাসের পক্ষেও ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়ে পড়াশোনা করানো সম্ভব হয়নি। তাই যেটুকু শিখেছেন দেশেই হাতে কলমে কাজ করে শিখেছেন অভিষেক। তিনি জনসাধারণকে সাপ সম্পর্কে সচেতন করতে চান। মানুষের নিষ্ঠুর আক্রমণ থেকে তাদের রক্ষা করতে চান। সেই লক্ষ্যেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন অভিষেক।