রাতারাতি উধাও হয়ে গেল মালদার একটি স্কুল! তৃণমূল নেতার বক্তব্য ঘিরে বাড়ছে জল্পনা

11
রাতারাতি উধাও হয়ে গেল মালদার একটি স্কুল! তৃণমূল নেতার বক্তব্য ঘিরে বাড়ছে জল্পনা

মালদার ইংরেজবাজার এলাকায় রাতারাতি ঘটে গেলো আজব কান্ড। ইংরেজবাজার পৌরসভার দশ নম্বর ওয়ার্ডে গড়ে উঠেছিল “ছাত্রবন্ধু প্রাথমিক বিদ্যালয়”। ১৯৬৯ সালে এই বিদ্যালয় গড়ে ওঠে। তবে কোনো এক আজব জাদুবলেই যেন রাতারাতি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ রীতিমতো উবে গেল! ছাত্র-ছাত্রীরা হয়রান, শিক্ষক-শিক্ষিকারাও অবাক। এ কোন মন্ত্রবলে রাতারাতি এত বছরের পুরাতন বিদ্যালয় এভাবে ভেঙে পড়তে পারে? উত্তর মিলছে না।

সূত্রের খবর, এলাকার দুস্থ পড়ুয়াদের শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যেই ১৯৬৯ সালে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ওই এলাকায় গড়ে ওঠে। সরকারের উদ্যোগেই নির্মিত হয়েছিল এই বিদ্যালয়। এতদিন এই বিদ্যালয়ে নিয়মিত পড়াশোনা হয়েছে। কিন্তু বেশ কিছুদিন আগে আচমকাই বিদ্যালয়টিকে ভেঙে দেওয়া হয়। কে বা কারা এমন কার্য ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে কোনো খবর নেই। এত দিনের পুরাতন একটি বিদ্যালয় এভাবে আচমকা ভেঙ্গে দেওয়ায় স্বভাবতই এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, বিদ্যালয়টিকে ভাঙ্গা অবস্থাই দেখে প্রথমটা তারা ভেবেছিলেন সম্ভবত বিদ্যালয়টিকে আবার নতুন করে নির্মাণ করা হবে। কিন্তু শীঘ্রই তাদের সে ভুল ভাঙ্গে। স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা অবশ্য বিষয়টি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শকের নজরে এনেছেন। জেলা পরিদর্শক ঘটনার তদন্ত করার পর স্থানীয় ইংরেজবাজার থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মালদা জেলার এসডিও নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় একটি ভাংচুরের মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পিছনে কে বা কারা জড়িত, সে সম্পর্কে অবশ্য এখনো কোনো তথ্য মেলেনি। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর দাবি, “স্কুল ভবনটি ভেঙে পড়েছিল। সাপের আনাগোনা বাড়ছিল। তাই এলাকা পরিষ্কার করা হয়েছে”! শুধু তাই নয় তার বিতর্কিত মন্তব্য, অন্য একটি জায়গায় স্কুল গড়ে তোলা হয়েছে। এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দাবি, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। অতএব তৃণমূল নেতার বক্তব্য জিরে স্বভাবতই জল্পনার উদ্রেক হয়েছে।