পাকিস্তানের বন্দীদশা কাটিয়ে ১৩ বছর পর দেশে ফিরলেন গুজরাটের এক বাসিন্দা

9
পাকিস্তানের বন্দীদশা কাটিয়ে ১৩ বছর পর দেশে ফিরলেন গুজরাটের এক বাসিন্দা

দেশের নানা জায়গায় নানা রকম ব্যাপার ঘটে থাকে কোনোটা আমাদের কানে আসে আবার কোনটা কানে আসে না। কত মানুষের জীবন কত হবে বদলে যায় তা আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা। গুজরাটের এক বাসিন্দা জানালো তার জীবনের একটি অন্ধকার অধ্যায়। ইসমাইল সামা নামে গুজরাটের এক বাসিন্দা জানায় যে ২০০৮ সালে তিনি গরু চরাতে গিয়েছিলেন এবং গরু চরাতে গিয়েই যে তিনি আর ফিরতে পারবে না সেটা তিনি কখনোই ভাবতে পারেননি।

১৩ টা বছর ধরে তাকে অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছিল পাকিস্তানের জেলেতে থেকে। এই পুরো ঘটনাটি শুধু নিজের নয় এমনকি অন্যরাও বিশ্বাস করতে পারছেনা। তিনি জানান চেয়ে ১৩ টি বছর পাকিস্তানের জেলে অত্যাচার সহ্য করে অবশেষে নিজের দেশে ফিরে এসেছে, যা তার পক্ষেও বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই সে জানিয়েছে।

কচ্ছ জেলার কাছে রয়েছে দিনারা গ্রাম সেখানে ৫০ কিলোমিটারের রয়েছে পাকিস্তান ভারত সীমান্ত। ইসমাহিল ফিরে এসেছে বলে এখন উৎসবের বাতাবরণ দেখা দিয়েছে কিন্তু কিভাবে সে পাকিস্তানে চলে গিয়ে ১৩ টা বছর জেলে কাটালো? এই কথার উত্তর দিতে গিয়ে একবারে যেন কেঁদে উঠছে ইসমাইল। সে বলেছে যে, “আমাকে একটা স্করপিও এসে ধাক্কা মেরে ছিল, তারপর আমি ব্যথা পেয়ে দিকবিদিক হয়ে গেছিলাম। কোন দিকে যেতে হবে সেটাই বুঝতে পারছিলাম না। হঠাৎ করেই আমাকে পাকিস্তানি সেনারা এসে ধরে নিয়ে যায় কারণ তারা জানায় যে আমি তাদের দেশে চলে এসেছি”।

“তারা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সুস্থ করে সেখান থেকে আইএসআই এর কাছে দিয়ে দেয়। আমাকে অনেক অত্যাচার করেছে আইএসআই’। আমি ভেবেছিলাম কোনদিন আমি বাড়ি ফিরতে পারবো না। আমি প্রায় পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। পাকিস্থানে অনেক ভারতীয়রাই’ আটকে রয়েছে। আইএসআই’র আমাকে দিয়ে বোঝাতে চেয়েছিল যে আমি ভারতের গুপ্তচর। কিন্তু আমি কোন কিছুই মানিনি এবং চুপ থেকেছি”।

২০১৭ সাল পর্যন্ত ইসমাইলের বাড়ির লোক জানেনি যে সে পাকিস্তানে রয়েছে। ইসমাইল বাড়িতে ফিরে এসেছে এবং তাদের ছেলেমেয়েদের দেখে সে ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়েছে।