মাওবাদীদের কবলে বিহারের একটি প্রত্যন্ত রেলস্টেশন! বন্ধ ট্রেন চলাচল

13
মাওবাদীদের কবলে বিহারের একটি প্রত্যন্ত রেলস্টেশন! বন্ধ ট্রেন চলাচল

বিহারের একটি প্রত্যন্ত রেলস্টেশন চলে গেল মাওবাদীদের কবলে। শনিবার ভোর রাতের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লি হাওড়া মেইন লাইনে প্রায় ২ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ রইলো। বিশিষ্ট সূত্রে খবর, শনিবার ভোররাতে বিহারের জামুই জেলার চৌরা স্টেশনে আধিপত্য বিস্তার করে ফেলে মাওবাদীরা। জামুইয়ের পুলিশ সুপার প্রমোদ কুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, খবর পেয়ে ইতিমধ্যেই আধাসামরিক বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে। ওই রেল স্টেশন মাওবাদীদের কবলমুক্ত করার প্রচেষ্টা চলছে।

আধা সামরিক বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়া মাত্র মাওবাদীরা গা ঢাকা দিয়েছে। পাহাড়ি ও জঙ্গল সংলগ্ন এলাকা হওয়াতে মাওবাদীদের পালিয়ে যেতে সুবিধা হয়েছে। জেলা সদর থেকে জায়গাটি প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। রেলের তরফের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এ দিন ভোরে মাওবাদীদের ওই দল আচমকাই রেল স্টেশনে হামলা চালায়। একের পর এক দূরপাল্লার ট্রেন থামিয়ে দেয় তারা।

ভোররাত ৩টে ২০ থেকে সকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত মাওবাদীদের দৌরাত্ম্য চলেছে স্টেশন জুড়ে। যার ফলে ট্রেনের পরিষেবায় মারাত্মকভাবে ব্যাঘাত ঘটে। রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক রাজেশ কুমার জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৫টার পর দিল্লি হাওড়া মেইন লাইনে ট্রেন পরিষেবা আবার স্বাভাবিক হয়েছে। রেলের লাইনে কোথাও মাওবাদীরা বিস্ফোরক লুকিয়ে রেখেছে কিনা তা পরীক্ষা করেই শেষমেষ ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

রেল আধিকারিকরা জানিয়েছেন এদিন ভোর রাতে সশস্ত্র মাওবাদীরা রেলস্টেশন ঘিরে ফেলে। স্টেশন মাস্টারের ঘরে ঢুকে লাল সিগন্যাল দেওয়ার জন্য জোর জবরদস্তি করতে থাকে। তা না হলে সম্পূর্ণ স্টেশন উড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেয় মাওবাদীরা। পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমের মাধ্যমে তারা সমস্ত যাত্রীদের বসে থাকতে নির্দেশ দেয়। উল্লেখ্য, মাওবাদী দমনের বিরুদ্ধে সপ্তাহব্যপী বন্ধ চালাচ্ছে মাওবাদীরা। যার চতুর্থ দিনে এই ঘটনা ঘটালো তারা। এর পেছনে কোনো ফাঁদ পেতে রাখা রয়েছে কিনা তার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।