২৯ বছর কোমায় থেকে ১৩০ কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন দিল্লির এক ব্যাক্তি

16
২৯ বছর কোমায় থেকে ১৩০ কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন দিল্লির এক ব্যাক্তি

জীবন এতটাই অনিশ্চিত জীবনে কখন কি ঘটে যাবে তা আমরা জানিনা। আজ আছি কাল নেই, এই কথাটি ভীষণভাবে সত্যিই প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে। তবে দিল্লির এক ব্যক্তির সঙ্গে এমন একটি ঘটনা ঘটল যা শুনে তাজ্জব হয়ে গেছে সারা দেশের প্রত্যেক মানুষ। ২৯ বছর কোমায় থাকার পর যখন তিনি সুস্থ হয়ে গেলেন তখন জানতে পারলেন তিনি ১৩০ কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন।

বেশি মাথাটা ঘুরে গেল। চলুন জেনে নেয়া যাক কিভাবে সম্ভব হয়েছিল এই ঘটনাটি। টাকার মালিক হওয়ার জন্য কিছুটা বিচারবুদ্ধির প্রয়োজন ছিল বাকিটা ছিল ভাগ্য। আজ থেকে ২ বছর আগেকার ঘটনা। শেয়ার বাজার সংক্রান্ত যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে টেলিভিশনে একটি অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হত। সেখানে দর্শকরা প্রশ্নের উত্তর দিতে নিজেদের সামনে পেতেন কিছু বিশেষজ্ঞদের।

নিজের শেয়ার সম্পর্কে জানার জন্য এমনই একটি চ্যানেলকে ফোন করেছিলেন ওই ব্যক্তি। জানতে পেরেছিলেন তার কেনা শেয়ারগুলি বাজারমূল্য ১৩০ টাকা। ওই ব্যক্তি এমআরএফ এর শেয়ারগুলি কিনেছিলেন ১৯৯০ সালে। শেয়ার কেনার কয়েকদিনের মধ্যেই জীবনে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যায় তার। গাড়ি দুর্ঘটনায় তিনি প্রাণ ফিরে পেলেও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি।

সেই সময় থেকে তিনি কোমায় চলে যান। ঘরের একটি বিছানায় জীবনের ২৯ টি বছর চুপ করে কেটে গিয়েছিল তার। তবে এই সময়ে সন্তানেরা তার পাশে ছিলেন এবং চিকিৎসায় কোন কমতি হয়নি তার। তিনি যখন পুরোপুরি সুস্থ হলেন তখন তার ছেলে মেয়ের বিয়ে হয়ে নাতি-নাতনি পর্যন্ত হয়ে গেছে। অনেক কিছুই পাল্টে গেছে চারিদিকে। হঠাৎ করেই জ্ঞান ফিরে আসে তার একদিন।

এতগুলি বছর পর নতুন করে চিনতে হয়েছিল তাকে সবকিছু। একটি ঘরের বাইরে পুরো বিশ্ব পাল্টে গিয়েছিল তার অজান্তেই। নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছিলেন তিনি আস্তে আস্তে। নাতির কাছে একদিন তিনি নিজের স্মৃতিগুলো বলে যাচ্ছিলেন। বলতে বলতে হঠাৎ করে মনে পড়ে যায় এমআরএফ এর শেয়ারের কথা, যেটি দুর্ঘটনার ঠিক আগে তিনি কিনেছিলেন।

খুব কম দামে শেয়ারগুলি কিনেছিলেন তিনি এটি মনে করতে পারলেও শেয়ারের কাগজপত্র কোথায় রেখেছিলেন, সেটি আর মনে করতে পারছিলেন না। দাদু এবং নাতি দুজনে মিলে বহু খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে পেয়ে গিয়েছিলেন সেই কাগজটি। কিন্তু এত পুরনো শেয়ার কি করে বিক্রি করবেন তা নিয়ে চিন্তা শুরু হয়েছে তাদের। তখন নাতিকে পাশে নিয়ে ওই ব্যক্তি একদিন ওই টেলিভিশনে ফোন করেন এবং সম্পূর্ণ ঘটনাটি খুলে বলেন। বিশেষজ্ঞরা কার কথা শুনে জানান, প্রথমে তাকে একটি ডিম্যাট একাউন্ট খুলতে হবে। এরপর শেয়ারগুলিকে সেখানে নিয়ে আসতে হবে। তবে তিনি শেয়ারগুলি কেনাবেচা করতে পারবেন।

এরপরই উপস্থিত একজন বিশেষজ্ঞ তাকে জানান, তার কেনা শেয়ারের মূল্য সেই সময় ছিল ১৩০ কোটি টাকা। অনুষ্ঠানটি কিছুক্ষণের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। সেই থেকে সিটি সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। আপনি চাইলে এখনও ওয়াটস অ্যাপ অথবা ফেসবুকে এই ভিডিওটি দেখতে পারেন। তবে ওই ব্যক্তি এরপর আদৌ টাকাটি পেয়েছিলেন কিনা, সে সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি।